ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কালিয়াকৈরে ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, প্রেমিকার মৃত্যু, গ্রেপ্তার প্রেমিক সিইসির পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ আটক ২৬০ আকিজ গ্রুপে অফিসার নিয়োগ, সঙ্গে প্রভিডেন্ট ফান্ড-গ্র্যাচুইটিসহ নানা সুবিধা দুদকে ৩ উপপরিচালকসহ ১২ কর্মকর্তার পদে রদবদল গোল ও জোড়া অ্যাসিস্টে রাঙানো বিদায়, শেষ হলো আর্জেন্টিনায় মেসি অধ্যায় তিন বছরেও গাজায় শান্তি অধরা, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়েছে সংঘাত শিক্ষক সংকট নিরসনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক পুলে আবেদনের সময় বাড়ল স্রোতে ফেরি বন্ধ, বারবার ভোগান্তিতে নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া নৌরুটের যাত্রীরা মেয়ের চাপে ১০ লাখ টাকার হেরোইন নিয়ে যশোর থেকে ঢাকায় ৬৫ বছরের মা ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা বন্ধ, কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষকে তলব
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

যাত্রীচাপ সামলাতে ব্যস্ত রুটের ট্রেনে বাড়ছে কোচ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:৫৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৩ সময় দেখুন

যেসব রুটে নিয়মিত যাত্রীচাহিদা বেশি, সেসব রুটের ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর মাধ্যমে একদিকে আসনসংখ্যা বাড়িয়ে যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ করা হবে, অন্যদিকে বেশি টিকিট বিক্রির মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন এ উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিয়মিত যাত্রীচাপ বেশি থাকা আন্তঃনগর ট্রেনগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে কোচ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

চাহিদার তুলনায় আসন কম

রেলওয়ে সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন ব্যস্ত রুটে চলাচলকারী অনেক ট্রেনে আসনের তুলনায় টিকিটের চাহিদা বেশি। ছুটির দিন ও বিভিন্ন উৎসবের সময় এ চাপ আরও বেড়ে যায়। ফলে অনেক যাত্রী টিকিট না পেয়ে ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে ট্রেনের ভেতরেও তৈরি হয় অস্বস্তিকর পরিবেশ। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন ট্রেন চালুর পরিবর্তে প্রথম ধাপে বিদ্যমান ট্রেনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে রেলওয়ে।

আরও পড়ুনঃ  একাধিক বিয়ে ও বাল্যবিয়ে ঠেকাতে আসছে ডিজিটাল নিবন্ধন

যেসব ট্রেনে নিয়মিতভাবে আসনের চেয়ে যাত্রীর চাহিদা বেশি, সেসব ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হবে। এতে তুলনামূলক কম সময়ে বিদ্যমান রেলসেবার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে।

যাত্রী বাড়লে বাড়বে আয়ও

বাংলাদেশ রেলওয়ের আয়ের বড় একটি অংশ আসে যাত্রী পরিবহন খাত থেকে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলওয়ের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে মোট আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা।

এর মধ্যে যাত্রী পরিবহন খাত থেকেই আগের অর্থবছরের তুলনায় অতিরিক্ত ২৫৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কোচ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আসন দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হয় রেলওয়ে। তাই চাহিদাসম্পন্ন ট্রেনে কোচ বাড়ানো গেলে একই সঙ্গে যাত্রীসেবা ও আয়—দুই দিকেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আরও পড়ুনঃ  মসজিদের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

কোচের ঘাটতিই বড় চ্যালেঞ্জ

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে কোচের স্বল্পতাকে। রেলওয়ের বহরে থাকা পুরোনো কোচের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনেও বিভিন্ন সময় কিছু কোচ চলাচল থেকে সরিয়ে নিতে হয়।

ফলে যাত্রীচাহিদা অনুযায়ী সব ট্রেনে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যা কাটাতে নতুন কোচ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন কোচ বহরে যুক্ত হলে চাহিদাসম্পন্ন ট্রেনে আসন বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ট্রেন চালুর সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজস্ব বাড়াতে নেওয়া হচ্ছে আরও উদ্যোগ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রেলের বিভিন্ন বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত মাসিক পর্যালোচনা সভায় আয় বাড়াতে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত না হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে: রাষ্ট্রপতি

এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোকে স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশন অনুযায়ী পরিচালনা, স্ক্র্যাপের দরপত্র দ্রুত নিষ্পত্তি, কমিউটার, লোকাল ও মেইল ট্রেন লিজ দেওয়ার উদ্যোগ এবং নবনির্মিত স্টেশনে দোকান বরাদ্দের বিষয় রয়েছে।

এ ছাড়া জয়দেবপুর কমিউটার, অভিযাত্রী কমিউটার ও সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রীসংখ্যা ও আয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেলের ভূসম্পত্তি বিভাগের আয়ও হিসাব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পর্যালোচনা সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, কোন রুটে কী পরিমাণ যাত্রীচাহিদা রয়েছে তা বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা গেলে নতুন অবকাঠামো তৈরির তুলনায় দ্রুত যাত্রীসেবার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে টিকিট বিক্রি বাড়িয়ে রেলের রাজস্ব আয়ও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কালিয়াকৈরে ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, প্রেমিকার মৃত্যু, গ্রেপ্তার প্রেমিক

যাত্রীচাপ সামলাতে ব্যস্ত রুটের ট্রেনে বাড়ছে কোচ

আপডেটের সময়: ০৯:৫৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

যেসব রুটে নিয়মিত যাত্রীচাহিদা বেশি, সেসব রুটের ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর মাধ্যমে একদিকে আসনসংখ্যা বাড়িয়ে যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ করা হবে, অন্যদিকে বেশি টিকিট বিক্রির মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন এ উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিয়মিত যাত্রীচাপ বেশি থাকা আন্তঃনগর ট্রেনগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে কোচ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

চাহিদার তুলনায় আসন কম

রেলওয়ে সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন ব্যস্ত রুটে চলাচলকারী অনেক ট্রেনে আসনের তুলনায় টিকিটের চাহিদা বেশি। ছুটির দিন ও বিভিন্ন উৎসবের সময় এ চাপ আরও বেড়ে যায়। ফলে অনেক যাত্রী টিকিট না পেয়ে ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে ট্রেনের ভেতরেও তৈরি হয় অস্বস্তিকর পরিবেশ। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন ট্রেন চালুর পরিবর্তে প্রথম ধাপে বিদ্যমান ট্রেনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে রেলওয়ে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে কানাডার প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

যেসব ট্রেনে নিয়মিতভাবে আসনের চেয়ে যাত্রীর চাহিদা বেশি, সেসব ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হবে। এতে তুলনামূলক কম সময়ে বিদ্যমান রেলসেবার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে।

যাত্রী বাড়লে বাড়বে আয়ও

বাংলাদেশ রেলওয়ের আয়ের বড় একটি অংশ আসে যাত্রী পরিবহন খাত থেকে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলওয়ের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে মোট আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা।

এর মধ্যে যাত্রী পরিবহন খাত থেকেই আগের অর্থবছরের তুলনায় অতিরিক্ত ২৫৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কোচ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আসন দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হয় রেলওয়ে। তাই চাহিদাসম্পন্ন ট্রেনে কোচ বাড়ানো গেলে একই সঙ্গে যাত্রীসেবা ও আয়—দুই দিকেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আরও পড়ুনঃ  সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত না হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে: রাষ্ট্রপতি

কোচের ঘাটতিই বড় চ্যালেঞ্জ

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে কোচের স্বল্পতাকে। রেলওয়ের বহরে থাকা পুরোনো কোচের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনেও বিভিন্ন সময় কিছু কোচ চলাচল থেকে সরিয়ে নিতে হয়।

ফলে যাত্রীচাহিদা অনুযায়ী সব ট্রেনে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যা কাটাতে নতুন কোচ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন কোচ বহরে যুক্ত হলে চাহিদাসম্পন্ন ট্রেনে আসন বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ট্রেন চালুর সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজস্ব বাড়াতে নেওয়া হচ্ছে আরও উদ্যোগ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রেলের বিভিন্ন বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত মাসিক পর্যালোচনা সভায় আয় বাড়াতে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  মসজিদের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোকে স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশন অনুযায়ী পরিচালনা, স্ক্র্যাপের দরপত্র দ্রুত নিষ্পত্তি, কমিউটার, লোকাল ও মেইল ট্রেন লিজ দেওয়ার উদ্যোগ এবং নবনির্মিত স্টেশনে দোকান বরাদ্দের বিষয় রয়েছে।

এ ছাড়া জয়দেবপুর কমিউটার, অভিযাত্রী কমিউটার ও সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রীসংখ্যা ও আয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেলের ভূসম্পত্তি বিভাগের আয়ও হিসাব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পর্যালোচনা সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, কোন রুটে কী পরিমাণ যাত্রীচাহিদা রয়েছে তা বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা গেলে নতুন অবকাঠামো তৈরির তুলনায় দ্রুত যাত্রীসেবার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে টিকিট বিক্রি বাড়িয়ে রেলের রাজস্ব আয়ও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।