সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ধর্ষণের অভিযোগে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার এক শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর নানি। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ভুক্তভোগী শিশুটির নানি বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন। মামলার আসামিরা হলেন মাদ্রাসার শিক্ষক নূর আলম সরদার (৩৬) এবং ওই প্রতিষ্ঠানের দশম ও অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্র।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে নানির বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। তার বাবা যশোরের শার্শা উপজেলার বাসিন্দা। আর মা জীবিকার তাগিদে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে অবস্থান করছেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী শিশুটির গোসলের দৃশ্য গোপনে ভিডিও ধারণ করে। পরে সে ভিডিওটি অষ্টম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীর কাছে দেয়। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দুই শিক্ষার্থী শিশুটিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত নানির অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে তারা শিশুটিকে ধর্ষণ করে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষক নূর আলম সরদারের বিরুদ্ধেও ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, প্রতিবেশী ও শিক্ষক হওয়ায় তিনি নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি শিশুটির নানি বাড়িতে না থাকার সুযোগে তিনি শিশুটিকে জুস খেতে দেন। জুস পান করার পর শিশুটি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে শিক্ষক তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বয়স কম হওয়া এবং সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে শিশুটি এত দিন পরিবারের কাউকে বিষয়টি জানায়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ৫ অক্টোবর সকালে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নানি তাকে চিকিৎসার জন্য যশোরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে নানির জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি নির্যাতনের ঘটনা খুলে বলে।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থী আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। শিক্ষকের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম বলেন, শিশুটির নানির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকে আসামি করে নিয়মিত মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে এবং গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির নানি অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি অসহায় মানুষ। আল্লাহ আর থানা-পুলিশই এখন আমার ভরসা। মেয়েটার জীবন তো শেষ হয়ে গেল! এখন কী করব, কোথায় যাব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’
প্রতিবেদকের নাম 
























