ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
তাজমীন হত্যা: অটোরিকশাচালক সুমনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ, উদ্ধার স্কুলছাত্রীর আইফোন শিক্ষার্থীর আইফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে, ১৭ হাজার টাকা আদায়ের দাবি শ্যামনগরে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, মাদ্রাসাশিক্ষক ও দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা নারায়ণগঞ্জে ১০ লাখ টাকা পাওনা নিয়ে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৭২ বছরের বৃদ্ধার সাবেক স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার ২১ ঘণ্টা ধরে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ চুয়েটের উপাচার্য, অসুস্থ দুজন মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান খায়রুল আনাম যুক্তরাষ্ট্রে ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড’-এ সেরা ড্রামার ডিকিউ মিথুন শতাধিক গুম-খুনের মামলা: জিয়াউল আহসানের আইনজীবীদের জেরার মুখে তদন্ত কর্মকর্তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে কমতে পারে রেমিট্যান্স, নতুন শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার: শামা ওবায়েদ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

শতাধিক গুম-খুনের মামলা: জিয়াউল আহসানের আইনজীবীদের জেরার মুখে তদন্ত কর্মকর্তা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১০:২২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ সময় দেখুন

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে জেরা শুরু হচ্ছে আজ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ জেরা হওয়ার কথা রয়েছে। আসামিপক্ষে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী সাহিদুর রহমান, নাজনীন নাহারসহ আইনজীবীদের একটি প্যানেল জেরা করবেন।

তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দিতে যেসব অভিযোগ

গত ৮ অক্টোবর এ মামলায় একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি শেষ হয়। তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যে তিনি সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ তুলে ধরেন।

আরও পড়ুনঃ  হয়রানির প্রতিবাদে ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধ

তদন্ত কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালকে জানান, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জনসমক্ষে এলে সেগুলোকে বৈধতা দিতে লোকদেখানো প্রশাসনিক নির্বাহী তদন্ত করা হতো। প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালে রাখতেই এ ধরনের নিয়ন্ত্রিত তদন্ত ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রফিকুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রিত তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন করা হতো। এ উদ্দেশ্যে কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা ও ভুল ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে বাধ্য করা হতো। এর লক্ষ্য ছিল প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করা।

তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর তাঁকে জেরার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। সেই অনুযায়ী, মামলার রাষ্ট্রপক্ষের ১৫তম সাক্ষী হিসেবে আজ আসামিপক্ষের আইনজীবীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অভিযোগ: ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে হামলার ষড়যন্ত্রে আইআরজিসি জড়িত, দুই নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা

তিনটি অভিযোগে শতাধিক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

প্রসিকিউশন জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর জবানবন্দি দেন কামরুল ইসলাম। একই দিন মামলার ১৩তম সাক্ষী র‍্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। তিনি ছিলেন মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নারীস্বাস্থ্য উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান ডা. জুবাইদার

তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, একই সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনকে হত্যা করা হয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

এসব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এর আগে ১৭ ডিসেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একই দিন তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

তাজমীন হত্যা: অটোরিকশাচালক সুমনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ, উদ্ধার স্কুলছাত্রীর আইফোন

শতাধিক গুম-খুনের মামলা: জিয়াউল আহসানের আইনজীবীদের জেরার মুখে তদন্ত কর্মকর্তা

আপডেটের সময়: ১০:২২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে জেরা শুরু হচ্ছে আজ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ জেরা হওয়ার কথা রয়েছে। আসামিপক্ষে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী সাহিদুর রহমান, নাজনীন নাহারসহ আইনজীবীদের একটি প্যানেল জেরা করবেন।

তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দিতে যেসব অভিযোগ

গত ৮ অক্টোবর এ মামলায় একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি শেষ হয়। তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যে তিনি সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ তুলে ধরেন।

আরও পড়ুনঃ  পরাজিত শক্তির মদদে নাশকতার চেষ্টা চলছে: রিজভী

তদন্ত কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালকে জানান, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জনসমক্ষে এলে সেগুলোকে বৈধতা দিতে লোকদেখানো প্রশাসনিক নির্বাহী তদন্ত করা হতো। প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালে রাখতেই এ ধরনের নিয়ন্ত্রিত তদন্ত ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রফিকুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রিত তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন করা হতো। এ উদ্দেশ্যে কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা ও ভুল ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে বাধ্য করা হতো। এর লক্ষ্য ছিল প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করা।

তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর তাঁকে জেরার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। সেই অনুযায়ী, মামলার রাষ্ট্রপক্ষের ১৫তম সাক্ষী হিসেবে আজ আসামিপক্ষের আইনজীবীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  ২০৩০ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য

তিনটি অভিযোগে শতাধিক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

প্রসিকিউশন জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর জবানবন্দি দেন কামরুল ইসলাম। একই দিন মামলার ১৩তম সাক্ষী র‍্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। তিনি ছিলেন মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চার দিনের সফরে ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, একই সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনকে হত্যা করা হয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

এসব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এর আগে ১৭ ডিসেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একই দিন তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন।