ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

সবাই নিজেকে বদলালে সমাজ বদলে যাবে

  • Arif
  • আপডেটের সময়: ০৩:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময় দেখুন

আমরা সবাই একটি সুন্দর ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ আশা করি। সবার মনের একটি আশা হলো, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন হোক। মানুষের মধ্যে সেৌহার্দ, শানি্ত ও শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। সবাই তার প্রাপ্য অধিকার বুঝে পাক। কেউ কারো দ্বারা প্রতারিত না হোক। কোনো সমাজে এমন পরিবর্তন ঘটানো রাতারাতি সম্ভব নয়। সত্যিকারের একটি সুন্দর সমাজ গড়তে হলে, আগে প্রতিটি মানুষকে সত্ হবে। নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। ব্যক্তি পর্যায়ে ইনসাফ না এলে, কারো পক্ষেই গোটা সমাজকে ইনসাফপূর্ণ সমাজ বানানো সম্ভব নয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে।’ (সুরা রাদ, আয়াত : ১১)

অতএব, সমাজকে বদলাতে চাইলে আগে নিজেকে বদলাতে হবে। প্রতিটি মানুষ যদি নিজেকে না বদলায় তাহলে কোনো সমাজে শানিত্ম ও ইনসাফ আনা সম্ভব নয়। পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি আমাদের শেখায়, বাহ্যিক পরিবর্তনের আগে প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন। মানুষ যদি ঈমানের পরিবর্তে কুফর, আনুগত্যের পরিবর্তে অবাধ্যতা, কৃতজ্ঞতার পরিবর্তে অকৃতজ্ঞতা এবং নেক আমলের পরিবর্তে পাপাচারকে বেছে নেয়, সবাই যার যার জায়গায় অনৈতিক পথ বেছে নিয়ে শর্টকাটে ধনী হওয়ার স্বপ্ন লালন করে, তাহলে সে সমাজে শানি্ত ও ইনসাফ কোনোই আসা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুনঃ  হাসপাতালে থাকা ফারজানা রুপার সঙ্গে দুই সন্তানকে দেখা করার অনুমতি

অন্যদিকে মানুষ যদি মহান আল্লাহর কাছে নিজের পূর্ববর্তী পাপের উপর অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করে, অবাধ্যতা থেকে আনুগত্যে ফিরে আসে এবং অকৃতজ্ঞতা থেকে শোকরের দিকে ঝুঁকে পড়ে, নেক আমল করে, আমানত রক্ষায় সচষ্টে হয় ও সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহকে ভয় করে, তাহলে মহান আল্লাহও তঁাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেবেন, ইনশাআল্লাহ। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইউনুস (আ.)-এর জাতি। তারা ঈমান গ্রহণ করার পর আল্লাহ তাদের ওপর থেকে দুনিয়ার লাঞ্ছনাদায়ক শাসি্ত সরিয়ে দেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, এমন কোনো জনপদের দৃষ্টান্ত আছে কি যে তারা (শাসি্ত দেখার পর) ঈমান আনল আর তাদের ঈমান উপকারে আসল- একমাত্র ইউনুসের সম্প্রদায় ছাড়া? তারা যখন ঈমান আনল, তখন আমি দুনিয়ার জীবনে তাদের থেকে হীনতাব্যঞ্জক আজাব সরিয়ে দিলাম, আর একটা নির্দষ্টি মেয়াদ পর্যন্ত তাদের জীবন উপভোগ করার সুযোগ দিলাম।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৯৮)

আরও পড়ুনঃ  ছয় বছর ধরে সার্জন নেই, রাজনগর ভেটেরিনারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

অতএব, সমাজকে সুন্দর ও ইনসাফপূর্ণ করতে প্রতিটি মানুষের মাঝে ঈমান ও তাকওয়ার বীজ বপনের মেহনতের বিকল্প নেই। প্রকৃত ঈমান ও তাকওয়া পৃথিবীর নিকৃষ্ট জাতিকেও সর্বোত্কৃষ্ট জাতিতে পরিণত করতে পারে, যার নজির মহানবী (সা.) রেখে গেছেন। জাহিলি যুগের বর্বর মানুষগুলোর মধ্যে তিনি ঈমানের মেহনত করে তঁাদের সোনার মানুষে রূপান্তর করেছিলেন।

এভাবে মানুষ যখন প্রকৃতপক্ষে ঈমান ঠিক করবে, তাকওয়া অবলম্বন করবে, তখন তাদের ওপর মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত নাজিল হবে ইনশাআল্লাহ। কেননা পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, জনপদের অধিবাসীরা যদি ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আকাশ ও পৃথিবীর বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৯৬)

অর্থাত্ মানুষের চরিত্র, বিশ্বাস ও কর্মের পরিবর্তনের সঙ্গে তার জীবনের কল্যাণেরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রতিটি মানুষের উচিত, নিজেকে পরিবর্তন করা। সামর্থয অনুযায়ী মানুষকে সত্ কাজে আদেশ ও অসত্ কাজে বাধা প্রদান করা।

আরও পড়ুনঃ  শুধু ভালো শিক্ষার্থী নয়, ভালো মানুষ হওয়ার আহ্বান আইজিপির

কারণ সমাজকে শানি্তপূর্ণ করতে যেমন নিজেকে পরিবর্তন করা জরুরি, তেমনি সামর্থযের ভেতর থেকে অসত্ কাজে বঁাধা দেওয়াও জরুরি (বিশেষ করে যাদের মহান আল্লাহ প্রভাব, ক্ষমতা ও দায়িত্বের আসনে বসিয়েছেন)। তা না হলে অন্যায় সহার অপরাধে মহান আল্লাহর শাসি্তর সম্মুখীন হতে হবে।

জারির (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি মহানবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কোনো ব্যক্তি কোনো জাতির মধ্যে বাস করছে যাদের মাঝে পাপাচার হচ্ছে, তারা এ পাপাচার প্রতিরোধে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও প্রতিরোধ করছে না, তাহলে মৃতু্যর আগেই আল্লাহ তাদের চরম শাসি্ত দেবেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৩৩৯)

সুতরাং সমাজের পরিবর্তন চাইলে শুধু পরিস্থিতিকে দোষারোপ করলে হবে না। প্রথমে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে, ঈমানকে দৃঢ় করতে হবে, আমল সংশোধন করতে হবে, নিয়ামতের শোকর করতে হবে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে হবে। সত্ কাজে আদেশ ও অসত্ কাজে বাধা প্রদান করতে হবে।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রকৃত মুত্তাকি হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সবাই নিজেকে বদলালে সমাজ বদলে যাবে

আপডেটের সময়: ০৩:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমরা সবাই একটি সুন্দর ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ আশা করি। সবার মনের একটি আশা হলো, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন হোক। মানুষের মধ্যে সেৌহার্দ, শানি্ত ও শৃঙ্খলা ফিরে আসুক। সবাই তার প্রাপ্য অধিকার বুঝে পাক। কেউ কারো দ্বারা প্রতারিত না হোক। কোনো সমাজে এমন পরিবর্তন ঘটানো রাতারাতি সম্ভব নয়। সত্যিকারের একটি সুন্দর সমাজ গড়তে হলে, আগে প্রতিটি মানুষকে সত্ হবে। নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। ব্যক্তি পর্যায়ে ইনসাফ না এলে, কারো পক্ষেই গোটা সমাজকে ইনসাফপূর্ণ সমাজ বানানো সম্ভব নয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে।’ (সুরা রাদ, আয়াত : ১১)

অতএব, সমাজকে বদলাতে চাইলে আগে নিজেকে বদলাতে হবে। প্রতিটি মানুষ যদি নিজেকে না বদলায় তাহলে কোনো সমাজে শানিত্ম ও ইনসাফ আনা সম্ভব নয়। পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি আমাদের শেখায়, বাহ্যিক পরিবর্তনের আগে প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন। মানুষ যদি ঈমানের পরিবর্তে কুফর, আনুগত্যের পরিবর্তে অবাধ্যতা, কৃতজ্ঞতার পরিবর্তে অকৃতজ্ঞতা এবং নেক আমলের পরিবর্তে পাপাচারকে বেছে নেয়, সবাই যার যার জায়গায় অনৈতিক পথ বেছে নিয়ে শর্টকাটে ধনী হওয়ার স্বপ্ন লালন করে, তাহলে সে সমাজে শানি্ত ও ইনসাফ কোনোই আসা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুনঃ  সালমান শাহকে স্মরণে টানা সাত দিন পর্দায় সাত জনপ্রিয় সিনেমা

অন্যদিকে মানুষ যদি মহান আল্লাহর কাছে নিজের পূর্ববর্তী পাপের উপর অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করে, অবাধ্যতা থেকে আনুগত্যে ফিরে আসে এবং অকৃতজ্ঞতা থেকে শোকরের দিকে ঝুঁকে পড়ে, নেক আমল করে, আমানত রক্ষায় সচষ্টে হয় ও সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহকে ভয় করে, তাহলে মহান আল্লাহও তঁাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেবেন, ইনশাআল্লাহ। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইউনুস (আ.)-এর জাতি। তারা ঈমান গ্রহণ করার পর আল্লাহ তাদের ওপর থেকে দুনিয়ার লাঞ্ছনাদায়ক শাসি্ত সরিয়ে দেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, এমন কোনো জনপদের দৃষ্টান্ত আছে কি যে তারা (শাসি্ত দেখার পর) ঈমান আনল আর তাদের ঈমান উপকারে আসল- একমাত্র ইউনুসের সম্প্রদায় ছাড়া? তারা যখন ঈমান আনল, তখন আমি দুনিয়ার জীবনে তাদের থেকে হীনতাব্যঞ্জক আজাব সরিয়ে দিলাম, আর একটা নির্দষ্টি মেয়াদ পর্যন্ত তাদের জীবন উপভোগ করার সুযোগ দিলাম।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৯৮)

আরও পড়ুনঃ  গুজব ছড়িয়ে দেশ অস্থিতিশীলের চেষ্টা, সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অতএব, সমাজকে সুন্দর ও ইনসাফপূর্ণ করতে প্রতিটি মানুষের মাঝে ঈমান ও তাকওয়ার বীজ বপনের মেহনতের বিকল্প নেই। প্রকৃত ঈমান ও তাকওয়া পৃথিবীর নিকৃষ্ট জাতিকেও সর্বোত্কৃষ্ট জাতিতে পরিণত করতে পারে, যার নজির মহানবী (সা.) রেখে গেছেন। জাহিলি যুগের বর্বর মানুষগুলোর মধ্যে তিনি ঈমানের মেহনত করে তঁাদের সোনার মানুষে রূপান্তর করেছিলেন।

এভাবে মানুষ যখন প্রকৃতপক্ষে ঈমান ঠিক করবে, তাকওয়া অবলম্বন করবে, তখন তাদের ওপর মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত নাজিল হবে ইনশাআল্লাহ। কেননা পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, জনপদের অধিবাসীরা যদি ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আকাশ ও পৃথিবীর বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৯৬)

অর্থাত্ মানুষের চরিত্র, বিশ্বাস ও কর্মের পরিবর্তনের সঙ্গে তার জীবনের কল্যাণেরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রতিটি মানুষের উচিত, নিজেকে পরিবর্তন করা। সামর্থয অনুযায়ী মানুষকে সত্ কাজে আদেশ ও অসত্ কাজে বাধা প্রদান করা।

আরও পড়ুনঃ  ছয় জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস, ৬০ কিমি বেগে দমকা হাওয়ার শঙ্কা

কারণ সমাজকে শানি্তপূর্ণ করতে যেমন নিজেকে পরিবর্তন করা জরুরি, তেমনি সামর্থযের ভেতর থেকে অসত্ কাজে বঁাধা দেওয়াও জরুরি (বিশেষ করে যাদের মহান আল্লাহ প্রভাব, ক্ষমতা ও দায়িত্বের আসনে বসিয়েছেন)। তা না হলে অন্যায় সহার অপরাধে মহান আল্লাহর শাসি্তর সম্মুখীন হতে হবে।

জারির (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি মহানবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কোনো ব্যক্তি কোনো জাতির মধ্যে বাস করছে যাদের মাঝে পাপাচার হচ্ছে, তারা এ পাপাচার প্রতিরোধে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও প্রতিরোধ করছে না, তাহলে মৃতু্যর আগেই আল্লাহ তাদের চরম শাসি্ত দেবেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৩৩৯)

সুতরাং সমাজের পরিবর্তন চাইলে শুধু পরিস্থিতিকে দোষারোপ করলে হবে না। প্রথমে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে, ঈমানকে দৃঢ় করতে হবে, আমল সংশোধন করতে হবে, নিয়ামতের শোকর করতে হবে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে হবে। সত্ কাজে আদেশ ও অসত্ কাজে বাধা প্রদান করতে হবে।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রকৃত মুত্তাকি হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।