গোয়াইনঘাট (সিলেট) সংবাদদাতা | ১১ অক্টোবর ২০২৬
সিলেটের গোয়াইনঘাটে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে হামলায় বদরুল আলম (৩২) নামে ছাত্রদলের এক সাবেক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা সাদেক মিয়া (২৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর রুস্তুমপুর ইউনিয়নের গুরাগ্রামের সোনা মিয়ার বাড়ির সামনের কাঁচা রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বদরুল আলম রুস্তুমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি হাদারপার গ্রামের মৃত মাওলানা তজম্মুল আলীর ছেলে। আহত সাদেক মিয়া একই ইউনিয়নের লামা হাদারপার এলাকার (ভৈরবী বস্তি) মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
মোটরসাইকেল থামিয়ে হামলার অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে ফজরের নামাজের সময় সাদেক মিয়ার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা সোনা মিয়া ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনি কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বদরুলের ওপর হামলা করতে দেখেন বলে জানান। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা তা উপেক্ষা করে।
পরে সোনা মিয়া নিহতের স্বজনদের খবর দেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বদরুল ও সাদেককে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই আখলাকুল আম্বিয়া জানান, ভোর পৌনে ৫টার দিকে বদরুলের সঙ্গে থাকা সাদেক আহমদ তার ছোট ভাই মাহবুবকে ফোন করে সাহায্য চান। এরপর থেকে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করেন।
ব্যবসার টাকা নিয়ে ফেরার পথে হামলার অভিযোগ
নিহতের বড় ভাইয়ের অভিযোগ, স্থানীয় মনরতল বাজার থেকে ব্যবসার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বদরুলের মোটরসাইকেল থামিয়ে গুরাগ্রামের সাহিন, তুহিন ও মামুনসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় বদরুল ও সাদেকের ব্যবহৃত টিভিএস মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
জড়িতদের শনাক্তে পুলিশের তদন্ত
ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, ভোর পৌনে ৫টার দিকে বদরুল ও সাদেকের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাদের ওপর হামলা করা হয়। বদরুলকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সাদেক গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, প্রত্যক্ষদর্শীরা একাধিক ব্যক্তির নাম বলেছেন। তবে হত্যার কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















