ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিএডিসির সার পরিবহণের টেন্ডারে বাধার অভিযোগ, অংশ নেয়নি কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যবসা ও বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করতে আরজেএসসি-আইবিএর সঙ্গে বৈঠক ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত, সাত বছরেও চালু হয়নি রংপুরের শিশু হাসপাতাল অক্টোবরে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত চলন্ত বাসে সন্তান প্রসব, পরিবহনের নামে শিশুর নাম; আজীবন ফ্রি ভ্রমণের ঘোষণা ২ লাখ ৬০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন সড়কের পাশে প্রবীণকে দেখে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, নিলেন দোয়া রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপে কঠোর শাস্তির দাবি শফিকুর রহমানের ৪ হাজার ৫৯২ জনবল নিয়ে হচ্ছে সাইবার পুলিশ ইউনিট, থাকবে ক্রিপ্টো ও ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

সুগন্ধার ভাঙনে নিঃস্ব শত পরিবার, ঝুঁকিতে বাবুগঞ্জ বাজার-বিমানবন্দর

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:১৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন

বরিশালের বাবুগঞ্জে সুগন্ধা নদীর ভাঙন নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বসতভিটা, দোকান, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো বাবুগঞ্জ বাজার ও বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দেয়ালও ঝুঁকিতে পড়েছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত থেকে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাজারসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নদীগর্ভে চলে যায় একটি পুরোনো মসজিদ, দুটি বসতভিটা, দুটি দোকান, গাছপালা ও বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটের গণশৌচাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

পশ্চিম ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়েছে। নতুন করে ঘর তুললেও এবার সেসব ঘরও ভাঙনের মুখে পড়েছে।

সরোয়ার হোসেন ও সুমি বেগম দম্পতির বসতঘরের রান্নাঘর ও চুলা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের আশঙ্কায় ঘরের বারান্দা খুলে অন্যের বাড়িতে রেখে দিয়েছেন তারা। তবে রান্না চালিয়ে নিতে সুমি নদীর পাড়েই নতুন মাটির চুলা তৈরি করছেন।

সুমি বেগম বলেন, ‘পাঁচবার ভাঙনের পর এইহানে ঘর তুলছিলাম। তাও ভাঙনে নিতেছে। ঘরের বারান্দা খুইলা অন্য মানুষের বাড়িতে রাখছি। এহন আমাগো আর অন্য কোথাও যাওনের জায়গা নাই। তাই বাচ্চা লইয়া এইহানেই আতঙ্কে নির্ঘুম রাইত কাডাই।’

আরও পড়ুনঃ  সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: যুবলীগ নেতা শাহ আলম অনিক গ্রেপ্তার

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদারের দাবি, পশ্চিম ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের শতাধিক পরিবার একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়েছে। আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট ভাঙন হলে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দেয়াল নদীগর্ভে চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুগন্ধার তীরে বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন চলছে। বড় বড় মাটির খণ্ড ধসে নদীতে পড়ছে। নিজেদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় স্থানীয়রা মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।

এরই মধ্যে ভাঙনের কবলে পড়েছে খেয়াঘাটের সংযোগ সড়ক। ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পন্টুনও। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে বাবুগঞ্জ বাজার, মসজিদ, থানা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এক বছর আগে ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলেছিল। তবে চলতি বছরের ভাঙনে সেগুলোর অনেকটাই নদীগর্ভে চলে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  সাত দিনের ‘আল্টিমেটামের’ আগেই ইরানকে ট্রাম্পের জবাব, হরমুজ নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব মিস্ত্রি বলেন, দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে এর প্রভাব বাবুগঞ্জ বাজারেও পড়বে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি কয়েকশ মানুষের বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সমাজসেবক মোয়াজ্জেম বিশ্বাস বলেন, বছরের পর বছর বাবুগঞ্জ বাজার ও আশপাশের ঘরবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এবার ভাঙন আরও ভয়াবহ হয়েছে। বাজার ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, বাবুগঞ্জে সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ—তিনটি নদী রয়েছে। এসব নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল জানান, বাবুগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকার সুগন্ধা নদীর বাম তীরে ব্যাপক ভাঙন হচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীটির বিভিন্ন অংশে ভাঙন বেড়েছে। বাবুগঞ্জের এই অংশের জন্য ইতোমধ্যে সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, সমীক্ষার ভিত্তিতে সুগন্ধার বাম তীরের প্রায় ৩ হাজার ৬২৬ মিটার এলাকায় সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ পেয়েছে এবং এখন একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি মাসেই অনুমোদন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে বৃহস্পতিবার ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ভাঙনের ছবি ও স্থানীয়দের বক্তব্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জরুরি বরাদ্দ বা নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, স্থায়ী প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে সময় লাগবে, কিন্তু নদীভাঙন থেমে থাকবে না। তাই স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই জিও ব্যাগ ও বালুভর্তি বস্তাসহ জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের চোখ এখন একদিকে সুগন্ধার ভাঙনের দিকে, অন্যদিকে ৩ হাজার ৬২৬ মিটার তীর রক্ষার স্থায়ী প্রকল্পের একনেকে অনুমোদনের দিকে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদী আরও ভেতরে ঢুকে বাবুগঞ্জ বাজার ও বরিশাল বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিএডিসির সার পরিবহণের টেন্ডারে বাধার অভিযোগ, অংশ নেয়নি কোনো প্রতিষ্ঠান

সুগন্ধার ভাঙনে নিঃস্ব শত পরিবার, ঝুঁকিতে বাবুগঞ্জ বাজার-বিমানবন্দর

আপডেটের সময়: ১১:১৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জে সুগন্ধা নদীর ভাঙন নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বসতভিটা, দোকান, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো বাবুগঞ্জ বাজার ও বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দেয়ালও ঝুঁকিতে পড়েছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত থেকে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাজারসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নদীগর্ভে চলে যায় একটি পুরোনো মসজিদ, দুটি বসতভিটা, দুটি দোকান, গাছপালা ও বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটের গণশৌচাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

পশ্চিম ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়েছে। নতুন করে ঘর তুললেও এবার সেসব ঘরও ভাঙনের মুখে পড়েছে।

সরোয়ার হোসেন ও সুমি বেগম দম্পতির বসতঘরের রান্নাঘর ও চুলা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের আশঙ্কায় ঘরের বারান্দা খুলে অন্যের বাড়িতে রেখে দিয়েছেন তারা। তবে রান্না চালিয়ে নিতে সুমি নদীর পাড়েই নতুন মাটির চুলা তৈরি করছেন।

সুমি বেগম বলেন, ‘পাঁচবার ভাঙনের পর এইহানে ঘর তুলছিলাম। তাও ভাঙনে নিতেছে। ঘরের বারান্দা খুইলা অন্য মানুষের বাড়িতে রাখছি। এহন আমাগো আর অন্য কোথাও যাওনের জায়গা নাই। তাই বাচ্চা লইয়া এইহানেই আতঙ্কে নির্ঘুম রাইত কাডাই।’

আরও পড়ুনঃ  মার্কিন ঘাঁটির কাছে বড় জরুরি পরিস্থিতি, বাড়ি খালি করে আটক কয়েকজন

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদারের দাবি, পশ্চিম ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের শতাধিক পরিবার একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়েছে। আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট ভাঙন হলে বরিশাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দেয়াল নদীগর্ভে চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুগন্ধার তীরে বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন চলছে। বড় বড় মাটির খণ্ড ধসে নদীতে পড়ছে। নিজেদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় স্থানীয়রা মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।

এরই মধ্যে ভাঙনের কবলে পড়েছে খেয়াঘাটের সংযোগ সড়ক। ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পন্টুনও। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে বাবুগঞ্জ বাজার, মসজিদ, থানা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এক বছর আগে ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলেছিল। তবে চলতি বছরের ভাঙনে সেগুলোর অনেকটাই নদীগর্ভে চলে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব মিস্ত্রি বলেন, দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে এর প্রভাব বাবুগঞ্জ বাজারেও পড়বে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি কয়েকশ মানুষের বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সমাজসেবক মোয়াজ্জেম বিশ্বাস বলেন, বছরের পর বছর বাবুগঞ্জ বাজার ও আশপাশের ঘরবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এবার ভাঙন আরও ভয়াবহ হয়েছে। বাজার ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, বাবুগঞ্জে সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ—তিনটি নদী রয়েছে। এসব নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল জানান, বাবুগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকার সুগন্ধা নদীর বাম তীরে ব্যাপক ভাঙন হচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীটির বিভিন্ন অংশে ভাঙন বেড়েছে। বাবুগঞ্জের এই অংশের জন্য ইতোমধ্যে সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, সমীক্ষার ভিত্তিতে সুগন্ধার বাম তীরের প্রায় ৩ হাজার ৬২৬ মিটার এলাকায় সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ পেয়েছে এবং এখন একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি মাসেই অনুমোদন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  এক পাত্রেই ১ হাজার ৮০৭ গ্যালন শিম, রান্না করে বিশ্বরেকর্ড তুরস্কের

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ভাঙনের ছবি ও স্থানীয়দের বক্তব্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জরুরি বরাদ্দ বা নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, স্থায়ী প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে সময় লাগবে, কিন্তু নদীভাঙন থেমে থাকবে না। তাই স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই জিও ব্যাগ ও বালুভর্তি বস্তাসহ জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের চোখ এখন একদিকে সুগন্ধার ভাঙনের দিকে, অন্যদিকে ৩ হাজার ৬২৬ মিটার তীর রক্ষার স্থায়ী প্রকল্পের একনেকে অনুমোদনের দিকে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদী আরও ভেতরে ঢুকে বাবুগঞ্জ বাজার ও বরিশাল বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।