ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোটের প্রস্তাব বিএনপির বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে কাভার্ডভ্যানের চাপায় মা-ছেলের মৃত্যু ৫৪ দেশের প্রতিনিধিদের ভোটে ডংফাং স্কলারশিপের অ্যাম্বাসেডর ডা. আউয়াল পরিসংখ্যান নয়, প্রভাবই গুরুত্বপূর্ণ: নিজেকে সর্বকালের সেরা বলতে নারাজ কোহলি শাহরুখকে দেখার আশায় মান্নাতের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম: রাজকুমার রাও জয়ের জন্মদিনে শাকিব-অপুর ভালোবাসার বার্তা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: যুবলীগ নেতা শাহ আলম অনিক গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে দোকানে ডাকাতি, দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ জন গ্রেপ্তার কুবির লাইব্রেরিতে আসন নিয়ে বিরোধ, পরে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ৮ নদী-খালের বেদখল জমি উদ্ধারে কঠোর সরকার: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

সুন্দরবনে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা, কমছে পর্যটক; প্রস্তুত ২০ বছরের মহাপরিকল্পনা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:২৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ সময় দেখুন

 

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটক কমে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুন্দরবন ভ্রমণে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটনের মৌসুম। শীতকালে বনের নদী-খাল ও আবহাওয়া পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য অনুকূল থাকায় এ সময়েই সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

গত কয়েক অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সুন্দরবনে দেশি-বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে দেশি পর্যটক ছিলেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩০৯ এবং বিদেশি ২ হাজার ২৬১ জন। ওই বছর রাজস্ব আয় হয় ১ কোটি ৫১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯০ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  অবসরে যাওয়া চাকরিজীবীদের মধ্যে যারা নতুন পে স্কেলের সুবিধা পাবেন না

২০১৯-২০ অর্থবছরে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৭৯ জন। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ২১১ জনে। পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২১-২২ সালে পর্যটক বেড়ে হয় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৭৭ জন।

এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১৬ হাজার ১৪৩ জনে। ওই বছর রাজস্ব আয় হয় ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৩২ হাজার ৪৮০ টাকা।

তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পর্যটকের সংখ্যা কমে প্রায় ১ লাখে নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে পর্যটন জাহাজে করে সুন্দরবনে গেছেন মাত্র প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক। করমজলসহ বিভিন্ন স্পটে ছোট নৌযানে যাওয়া দর্শনার্থীর সংখ্যাও কমেছে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস) খুলনার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ধীরে ধীরে কমছে। অক্টোবর থেকে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও এখনো প্রত্যাশিত বুকিং পাওয়া যায়নি। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন মৌসুম নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ৭৭ পেরিয়ে ঢাবি অ্যালামনাই, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থাকার গল্প

তার মতে, সুন্দরবনের আশপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রিসোর্ট এবং পর্যটকদের অন্য গন্তব্যে চলে যাওয়ার প্রবণতা পর্যটক কমার অন্যতম কারণ।

এদিকে সুন্দরবনে পর্যটন বাড়াতে এবং একই সঙ্গে বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০ বছর মেয়াদি ‘সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরি করা হয়েছে। এতে গতানুগতিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে টেকসই পর্যটন উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মহাপরিকল্পনাটি তৈরিতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। এর ডেপুটি চিফ অব পার্টি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম।

তিনি বলেন, মহাপরিকল্পনাটি সুন্দরবনের পরিবেশ ও অর্থনীতির সমন্বয়ে একটি টেকনিক্যাল রোডম্যাপ। এটি বাস্তবায়ন হলে পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গতি আসবে।

আরও পড়ুনঃ  শাহরুখকে দেখার আশায় মান্নাতের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম: রাজকুমার রাও

মহাপরিকল্পনায় বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশীয় পর্যটনের অর্থ দেশের ভেতরেই ঘুরলেও বিদেশি পর্যটক বাড়লে নতুন বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসবে। ফলে সুন্দরবনকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি ও জাতীয় অর্থনীতিতে এর অবদান বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে খুলনায় সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের প্রচারে রোববার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের উদ্যোগে বিশেষ রোড শোর আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চঘাট থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, শহীদ হাদিস পার্ক হয়ে শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত এ কর্মসূচি হওয়ার কথা রয়েছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোটের প্রস্তাব বিএনপির

সুন্দরবনে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা, কমছে পর্যটক; প্রস্তুত ২০ বছরের মহাপরিকল্পনা

আপডেটের সময়: ০৬:২৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটক কমে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুন্দরবন ভ্রমণে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটনের মৌসুম। শীতকালে বনের নদী-খাল ও আবহাওয়া পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য অনুকূল থাকায় এ সময়েই সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

গত কয়েক অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সুন্দরবনে দেশি-বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে দেশি পর্যটক ছিলেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩০৯ এবং বিদেশি ২ হাজার ২৬১ জন। ওই বছর রাজস্ব আয় হয় ১ কোটি ৫১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯০ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  ৭৭ পেরিয়ে ঢাবি অ্যালামনাই, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থাকার গল্প

২০১৯-২০ অর্থবছরে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৭৯ জন। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ২১১ জনে। পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২১-২২ সালে পর্যটক বেড়ে হয় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৭৭ জন।

এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১৬ হাজার ১৪৩ জনে। ওই বছর রাজস্ব আয় হয় ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৩২ হাজার ৪৮০ টাকা।

তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পর্যটকের সংখ্যা কমে প্রায় ১ লাখে নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে পর্যটন জাহাজে করে সুন্দরবনে গেছেন মাত্র প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক। করমজলসহ বিভিন্ন স্পটে ছোট নৌযানে যাওয়া দর্শনার্থীর সংখ্যাও কমেছে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস) খুলনার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ধীরে ধীরে কমছে। অক্টোবর থেকে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও এখনো প্রত্যাশিত বুকিং পাওয়া যায়নি। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন মৌসুম নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আজ পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম

তার মতে, সুন্দরবনের আশপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রিসোর্ট এবং পর্যটকদের অন্য গন্তব্যে চলে যাওয়ার প্রবণতা পর্যটক কমার অন্যতম কারণ।

এদিকে সুন্দরবনে পর্যটন বাড়াতে এবং একই সঙ্গে বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০ বছর মেয়াদি ‘সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরি করা হয়েছে। এতে গতানুগতিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে টেকসই পর্যটন উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মহাপরিকল্পনাটি তৈরিতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। এর ডেপুটি চিফ অব পার্টি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম।

তিনি বলেন, মহাপরিকল্পনাটি সুন্দরবনের পরিবেশ ও অর্থনীতির সমন্বয়ে একটি টেকনিক্যাল রোডম্যাপ। এটি বাস্তবায়ন হলে পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গতি আসবে।

আরও পড়ুনঃ  লং ড্রাইভে আড্ডা দেবেন বিদ্যা সিনহা মিম, তানজিন তিশা ও কেয়া পায়েলরা

মহাপরিকল্পনায় বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশীয় পর্যটনের অর্থ দেশের ভেতরেই ঘুরলেও বিদেশি পর্যটক বাড়লে নতুন বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসবে। ফলে সুন্দরবনকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি ও জাতীয় অর্থনীতিতে এর অবদান বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে খুলনায় সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের প্রচারে রোববার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের উদ্যোগে বিশেষ রোড শোর আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চঘাট থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, শহীদ হাদিস পার্ক হয়ে শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত এ কর্মসূচি হওয়ার কথা রয়েছে।