ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু নেই, হাসপাতালে ভর্তি ৭৫৬ রামুতে দুই মাসের শিশুকে হত্যার অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে এবার ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করলেন ট্রাম্প ইউক্রেনের জাপোরিজিয়ায় রুশ হামলায় নিহত ৬, আহত ১৯ ডিএসইতে আরও ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিচ্যুত তরুণদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ছে, কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ বরিশালের গৌরনদীতে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু জিৎকে দলে নিতে চায় বিজেপি, প্রস্তাবের বিষয়ে যা বললেন অভিনেতা বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে ব্যবসায়ীরা খেলাপি হলে ব্যবস্থা নেবে সরকার: মন্ত্রী বাগেরহাট হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, দগ্ধ চালক; পুড়ল ৮ মোটরসাইকেল
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

হাঁটু মেঝেতে, জানালার গ্রিলে বাঁধা অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০ সময় দেখুন

বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার টরকী বন্দর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে মোমেনা বেগম (২৪) নামে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার মরদেহের পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে স্পর্শ করা অবস্থায় জানালার গ্রিলের সঙ্গে বাঁধা ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোররাত ৩টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন পেয়ে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ টরকী বন্দর ছাগলহাটা এলাকার মন্টু সরদারের ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, মোমেনা ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার কানারামপুর গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ মিয়ার মেয়ে। কর্মসূত্রে তিনি দীর্ঘদিন দুবাইয়ে বসবাস করতেন। সেখানে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামের সোহাগ রাঢ়ীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং প্রায় তিন বছর আগে দুবাইয়ে তাদের বিয়ে হয়।

আরও পড়ুনঃ  মেঘনায় ঘূর্ণিস্রোতে সাড়ে ৪ হাজার বস্তা সিমেন্টসহ ট্রলার ডুবি

স্বজনরা জানান, মোমেনা আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রায় ১৫ দিন আগে তার স্বামী সোহাগ রাঢ়ী তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি গৌরনদীর টরকী বন্দর ছাগলহাটা এলাকার ওই ভাড়া বাসায় শাশুড়ি, দেবর ও জায়ের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। তার জা দিনা বেগম সম্পর্কে মোমেনার আপন ছোট বোন। দিনার সঙ্গে মোমেনার প্রবাসী দেবর রায়হান রাঢ়ীর প্রায় এক বছর আগে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়।

মোমেনার ছোট বোন দিনা বেগমের দাবি, বাংলাদেশে ফেরার পর থেকেই তার স্বামী সোহাগ মোবাইল ফোনে মোমেনাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সোমবার বিকেলে জরুরি প্রয়োজনে তিনি বাসার বাইরে যান। রাতে ফিরে এসে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান।

আরও পড়ুনঃ  পেঁয়াজের তিন কেজির দামে মিলছে এক কেজি পটল

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জানান, রাত ১২টার দিকে বিদেশে থাকা মোমেনার স্বামী সোহাগ তাকে ফোন করে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ থাকার বিষয়টি জানান এবং বাসায় গিয়ে দেখতে বলেন। পরে জিয়াউর রহমান আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে কক্ষটির দরজা বন্ধ দেখতে পান।

পরে বাসায় থাকা মোমেনার দেবর রাহাত রাঢ়ী (১৭) ও তার মায়ের সহযোগিতায় দরজা ভাঙা হয়। কক্ষের ভেতরে ঢুকে তারা জানালার গ্রিলের সঙ্গে মোমেনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তার পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে স্পর্শ করছিল বলে জানান জিয়াউর রহমান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহতের বাবা মো. আব্দুল্লাহ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেননি। তার দাবি, ছোট মেয়ে দিনা বাসায় না থাকার সুযোগে প্রবাসী সোহাগের প্ররোচনায় তার ছোট ভাই ও মা মোমেনাকে হত্যা করেছেন। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  ৩৮২ শিক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫, দেশসেরা ফল নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুলে

তবে এ বিষয়ে এখনো পুলিশের তদন্ত শেষ হয়নি।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, মঙ্গলবার দুপুরে মোমেনার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসি আরও জানান, পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নিহতের শাশুড়ি ও দেবরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। নিহতের বাবার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু নেই, হাসপাতালে ভর্তি ৭৫৬

হাঁটু মেঝেতে, জানালার গ্রিলে বাঁধা অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

আপডেটের সময়: ০৪:০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার টরকী বন্দর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে মোমেনা বেগম (২৪) নামে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার মরদেহের পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে স্পর্শ করা অবস্থায় জানালার গ্রিলের সঙ্গে বাঁধা ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোররাত ৩টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন পেয়ে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ টরকী বন্দর ছাগলহাটা এলাকার মন্টু সরদারের ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, মোমেনা ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার কানারামপুর গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ মিয়ার মেয়ে। কর্মসূত্রে তিনি দীর্ঘদিন দুবাইয়ে বসবাস করতেন। সেখানে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামের সোহাগ রাঢ়ীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং প্রায় তিন বছর আগে দুবাইয়ে তাদের বিয়ে হয়।

আরও পড়ুনঃ  নাফ নদ থেকে বাংলাদেশি ৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

স্বজনরা জানান, মোমেনা আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রায় ১৫ দিন আগে তার স্বামী সোহাগ রাঢ়ী তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি গৌরনদীর টরকী বন্দর ছাগলহাটা এলাকার ওই ভাড়া বাসায় শাশুড়ি, দেবর ও জায়ের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। তার জা দিনা বেগম সম্পর্কে মোমেনার আপন ছোট বোন। দিনার সঙ্গে মোমেনার প্রবাসী দেবর রায়হান রাঢ়ীর প্রায় এক বছর আগে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়।

মোমেনার ছোট বোন দিনা বেগমের দাবি, বাংলাদেশে ফেরার পর থেকেই তার স্বামী সোহাগ মোবাইল ফোনে মোমেনাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সোমবার বিকেলে জরুরি প্রয়োজনে তিনি বাসার বাইরে যান। রাতে ফিরে এসে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান।

আরও পড়ুনঃ  মেঘনায় ঘূর্ণিস্রোতে সাড়ে ৪ হাজার বস্তা সিমেন্টসহ ট্রলার ডুবি

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জানান, রাত ১২টার দিকে বিদেশে থাকা মোমেনার স্বামী সোহাগ তাকে ফোন করে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ থাকার বিষয়টি জানান এবং বাসায় গিয়ে দেখতে বলেন। পরে জিয়াউর রহমান আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে কক্ষটির দরজা বন্ধ দেখতে পান।

পরে বাসায় থাকা মোমেনার দেবর রাহাত রাঢ়ী (১৭) ও তার মায়ের সহযোগিতায় দরজা ভাঙা হয়। কক্ষের ভেতরে ঢুকে তারা জানালার গ্রিলের সঙ্গে মোমেনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তার পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে স্পর্শ করছিল বলে জানান জিয়াউর রহমান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহতের বাবা মো. আব্দুল্লাহ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেননি। তার দাবি, ছোট মেয়ে দিনা বাসায় না থাকার সুযোগে প্রবাসী সোহাগের প্ররোচনায় তার ছোট ভাই ও মা মোমেনাকে হত্যা করেছেন। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  পেঁয়াজের তিন কেজির দামে মিলছে এক কেজি পটল

তবে এ বিষয়ে এখনো পুলিশের তদন্ত শেষ হয়নি।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, মঙ্গলবার দুপুরে মোমেনার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসি আরও জানান, পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নিহতের শাশুড়ি ও দেবরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। নিহতের বাবার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।