দেশের শিল্পখাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও নগদ প্রবাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এই সংকটে কোনো ব্যবসায়ী যাতে ব্যাংকের ‘লাল খাতায়’ অর্থাৎ খেলাপি তালিকায় না ওঠেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের খেলাপি তালিকায় নাম উঠলে একজন উদ্যোক্তাকে যে ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, সেই অভিজ্ঞতা তার নিজেরও রয়েছে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে কোনো ব্যবসায়ী যেন এমন পরিস্থিতিতে না পড়েন, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।
শিল্পখাতের বর্তমান সংকটের জন্য বিগত সরকারের অবকাঠামোগত ঘাটতিকে দায়ী করেন মন্ত্রী। তার দাবি, আগের সরকার টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি না করে সুবিধাজনক জায়গায় সীমিত পরিসরে কাজ করেছে। এর ফলে বর্তমানে সারা দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
তবে সংকট কাটিয়ে উঠতে দ্রুত একটি বয়লার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
শিল্প উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন।
শিল্পখাতের বর্তমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে উদ্যোক্তা, বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আরও একটি বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
দেশের শিল্পায়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির নীতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারও একটি শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। উদ্যোক্তাদের ঝুঁকি কমিয়ে দেশের উৎপাদন ও বিনিয়োগ ব্যবস্থা সচল রাখাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিবেদকের নাম 




















