ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নিরাপত্তা ত্রুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ লাখের বেশি গাড়ি ফিরিয়ে নিচ্ছে টয়োটা কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত্যু ২ হাজার ছাড়াল, আক্রান্ত ৪ হাজারের বেশি জমি নিয়ে বিরোধে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাত, পোস্ট অফিস কর্মীর মৃত্যু ১১ শিক্ষক, তবু এসএসসিতে তিন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করেনি দুই সপ্তাহের গ্যাস সংকটে লক্ষ্মীপুরে নাকাল জনজীবন, সিএনজি ভাড়া বেড়েছে ৪ গুণ নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বড় ভূমিকা রাখবে ফ্যামিলি কার্ড: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এনটিআরসিএর হাতেই শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ রাখার দাবি জবি শিক্ষার্থীদের মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড স্ট্রেচারে আদালতে আত্মসমর্পণ, অসুস্থ আসামিকে চিকিৎসার পরামর্শ বিচারকের ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, সুন্দরগঞ্জে ইউএনও অফিসে তালা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

হাঁটু মেঝেতে, জানালার গ্রিলে বাঁধা অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার টরকী বন্দর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে মোমেনা বেগম (২৪) নামে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার মরদেহের পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে স্পর্শ করা অবস্থায় জানালার গ্রিলের সঙ্গে বাঁধা ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোররাত ৩টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন পেয়ে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ টরকী বন্দর ছাগলহাটা এলাকার মন্টু সরদারের ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, মোমেনা ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার কানারামপুর গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ মিয়ার মেয়ে। কর্মসূত্রে তিনি দীর্ঘদিন দুবাইয়ে বসবাস করতেন। সেখানে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামের সোহাগ রাঢ়ীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং প্রায় তিন বছর আগে দুবাইয়ে তাদের বিয়ে হয়।

আরও পড়ুনঃ  বাড়িতে ঢুকে যুবদল নেতাকে গুলি, জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ

স্বজনরা জানান, মোমেনা আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রায় ১৫ দিন আগে তার স্বামী সোহাগ রাঢ়ী তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি গৌরনদীর টরকী বন্দর ছাগলহাটা এলাকার ওই ভাড়া বাসায় শাশুড়ি, দেবর ও জায়ের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। তার জা দিনা বেগম সম্পর্কে মোমেনার আপন ছোট বোন। দিনার সঙ্গে মোমেনার প্রবাসী দেবর রায়হান রাঢ়ীর প্রায় এক বছর আগে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়।

মোমেনার ছোট বোন দিনা বেগমের দাবি, বাংলাদেশে ফেরার পর থেকেই তার স্বামী সোহাগ মোবাইল ফোনে মোমেনাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সোমবার বিকেলে জরুরি প্রয়োজনে তিনি বাসার বাইরে যান। রাতে ফিরে এসে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান।

আরও পড়ুনঃ  ১৭ বছর পরও চাকরি স্থায়ীকরণের অনিশ্চয়তা, ব্রেন স্ট্রোকে নির্বাচন অফিসকর্মীর মৃত্যু

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জানান, রাত ১২টার দিকে বিদেশে থাকা মোমেনার স্বামী সোহাগ তাকে ফোন করে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ থাকার বিষয়টি জানান এবং বাসায় গিয়ে দেখতে বলেন। পরে জিয়াউর রহমান আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে কক্ষটির দরজা বন্ধ দেখতে পান।

পরে বাসায় থাকা মোমেনার দেবর রাহাত রাঢ়ী (১৭) ও তার মায়ের সহযোগিতায় দরজা ভাঙা হয়। কক্ষের ভেতরে ঢুকে তারা জানালার গ্রিলের সঙ্গে মোমেনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তার পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে স্পর্শ করছিল বলে জানান জিয়াউর রহমান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহতের বাবা মো. আব্দুল্লাহ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেননি। তার দাবি, ছোট মেয়ে দিনা বাসায় না থাকার সুযোগে প্রবাসী সোহাগের প্ররোচনায় তার ছোট ভাই ও মা মোমেনাকে হত্যা করেছেন। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  শেরপুর-তেলিবাজার সড়কে থামছে না দুর্ঘটনা, ৬ মাসে নিহত ১১৭

তবে এ বিষয়ে এখনো পুলিশের তদন্ত শেষ হয়নি।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, মঙ্গলবার দুপুরে মোমেনার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসি আরও জানান, পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নিহতের শাশুড়ি ও দেবরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। নিহতের বাবার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

নিরাপত্তা ত্রুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ লাখের বেশি গাড়ি ফিরিয়ে নিচ্ছে টয়োটা

হাঁটু মেঝেতে, জানালার গ্রিলে বাঁধা অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

আপডেটের সময়: ০৪:০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার টরকী বন্দর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে মোমেনা বেগম (২৪) নামে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার মরদেহের পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে স্পর্শ করা অবস্থায় জানালার গ্রিলের সঙ্গে বাঁধা ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোররাত ৩টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন পেয়ে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ টরকী বন্দর ছাগলহাটা এলাকার মন্টু সরদারের ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, মোমেনা ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার কানারামপুর গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ মিয়ার মেয়ে। কর্মসূত্রে তিনি দীর্ঘদিন দুবাইয়ে বসবাস করতেন। সেখানে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামের সোহাগ রাঢ়ীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং প্রায় তিন বছর আগে দুবাইয়ে তাদের বিয়ে হয়।

আরও পড়ুনঃ  অতিবৃষ্টি ও ভাইরাসে মোংলায় বাগদা চিংড়িতে মড়ক, সর্বস্বান্ত চাষিরা

স্বজনরা জানান, মোমেনা আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রায় ১৫ দিন আগে তার স্বামী সোহাগ রাঢ়ী তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি গৌরনদীর টরকী বন্দর ছাগলহাটা এলাকার ওই ভাড়া বাসায় শাশুড়ি, দেবর ও জায়ের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। তার জা দিনা বেগম সম্পর্কে মোমেনার আপন ছোট বোন। দিনার সঙ্গে মোমেনার প্রবাসী দেবর রায়হান রাঢ়ীর প্রায় এক বছর আগে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়।

মোমেনার ছোট বোন দিনা বেগমের দাবি, বাংলাদেশে ফেরার পর থেকেই তার স্বামী সোহাগ মোবাইল ফোনে মোমেনাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সোমবার বিকেলে জরুরি প্রয়োজনে তিনি বাসার বাইরে যান। রাতে ফিরে এসে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান।

আরও পড়ুনঃ  বাড়িতে ঢুকে যুবদল নেতাকে গুলি, জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জানান, রাত ১২টার দিকে বিদেশে থাকা মোমেনার স্বামী সোহাগ তাকে ফোন করে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ থাকার বিষয়টি জানান এবং বাসায় গিয়ে দেখতে বলেন। পরে জিয়াউর রহমান আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে কক্ষটির দরজা বন্ধ দেখতে পান।

পরে বাসায় থাকা মোমেনার দেবর রাহাত রাঢ়ী (১৭) ও তার মায়ের সহযোগিতায় দরজা ভাঙা হয়। কক্ষের ভেতরে ঢুকে তারা জানালার গ্রিলের সঙ্গে মোমেনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তার পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে স্পর্শ করছিল বলে জানান জিয়াউর রহমান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহতের বাবা মো. আব্দুল্লাহ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেননি। তার দাবি, ছোট মেয়ে দিনা বাসায় না থাকার সুযোগে প্রবাসী সোহাগের প্ররোচনায় তার ছোট ভাই ও মা মোমেনাকে হত্যা করেছেন। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  ফিল্মি কায়দায় পুলিশের হেফাজত থেকে পালালেন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি

তবে এ বিষয়ে এখনো পুলিশের তদন্ত শেষ হয়নি।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, মঙ্গলবার দুপুরে মোমেনার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসি আরও জানান, পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নিহতের শাশুড়ি ও দেবরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। নিহতের বাবার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।