ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ।
মঙ্গলবার কঙ্গোর সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কঙ্গোতে ইবোলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইতিহাসে এত দ্রুতগতিতে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা আগে দেখা যায়নি।
কঙ্গোর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পাঁচটি প্রদেশে ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৮১ জন। দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, চলমান সংঘাত এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে এবার ভাইরাসটি অতীতের তুলনায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
কঙ্গোয় এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। এবার বুন্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। এই প্রজাতির বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কঙ্গোর এই প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এরই মধ্যে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে।
গত মাসে ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে গত জানুয়ারি বা তারও আগে সংক্রমণ শুরু হয়ে থাকতে পারে। জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সেখানে ৫০০ জনের বেশি মানুষকে ইবোলার সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল।
চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোর অনিরাপদ পরিস্থিতির কারণে সংক্রমিত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, রোগীদের আইসোলেশন এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ইবোলার ভয়াবহতার তুলনা করলে দেখা যায়, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে প্রাদুর্ভাবে ২৮ হাজার ৬১৬ জন আক্রান্ত এবং ১১ হাজার ৩১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই প্রাদুর্ভাবে ১ হাজার মৃত্যুর মাইলফলক ছুঁতে প্রায় পাঁচ মাস সময় লেগেছিল।
অন্যদিকে, কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবে তিন মাসেরও কম সময়ে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের কঙ্গোর ইবোলা প্রাদুর্ভাবেও ২ হাজার মৃত্যুর মাইলফলকে পৌঁছাতে এক বছরের বেশি সময় লেগেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এক মাসেরও কম সময়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার থেকে বেড়ে ২ হাজারে পৌঁছানোয় কঙ্গোয় ইবোলার দ্রুত বিস্তারের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স
প্রতিবেদকের নাম 
























