রাজধানীতে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ডোম-ইনো বিল্ডার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, চুক্তির ১০ থেকে ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও ভবন নির্মাণ শেষ হয়নি। এতে শতাধিক জমির মালিক ও ফ্ল্যাট ক্রেতা আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সম্প্রতি রাজধানীতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে ডোম-ইনোর মালিক দম্পতির বিচার এবং দ্রুত প্রকল্পগুলোর সমাধানের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।
৮০ বছরের বেশি বয়সী বুয়েটের সাবেক শিক্ষক সুফিয়া খাতুন জানান, ২০০৭ সালে শান্তিনগরের পারিবারিক প্লটে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ডোম-ইনোর সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় সাড়ে ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও ভবন নির্মাণ শেষ হয়নি।
তার ভাষায়, দীর্ঘদিনের এই দুশ্চিন্তায় তার চিকিৎসক ছেলে ও দুই বোন মারা গেছেন। বর্তমানে অসমাপ্ত ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং সেখানে ময়লা পানি জমে পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডোম-ইনো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৮০টি প্রকল্পে একই ধরনের প্রতারণা করেছে। অনেক জমির মালিক নিজেদের বাড়ি ভেঙে কোম্পানির কাছে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর এখন বছরের পর বছর ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। অন্যদিকে, শত শত ফ্ল্যাট ক্রেতাও পুরো অর্থ পরিশোধ করেও ফ্ল্যাট বুঝে পাননি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ডোম-ইনোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অন্তত ১৩৬টি মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় আদালত কারাদণ্ড, জরিমানা এবং জমির মালিকদের দেওয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিলের আদেশও দিয়েছেন। এছাড়া একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
এদিকে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই একাধিক প্রকল্পে ভবন নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে রাজউকে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের দাবি, বিদ্যমান আইনের দুর্বলতার কারণে চুক্তি বাতিল বা দ্রুত প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ডোম-ইনোতে প্রশাসক নিয়োগ, প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের স্বার্থ রক্ষায় আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ডোম-ইনোর পক্ষ থেকে মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মো. আফজাল বলেন, বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে মামলা এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজ শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, প্রতিদ্বন্দ্বীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ সামনে আনছেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















