ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নতুন ফ্যাসিবাদের চেষ্টা হলে জনগণই প্রতিরোধ গড়বে: জামায়াত আমির হরমুজ প্রণালি চালুর আশায় কমল বিশ্ববাজারে তেলের দাম শুকরিয়া আদায় করে শান্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়া ২০৪৫ সালের ঢাকা: ৮ মেট্রোরেল, ৬ এক্সপ্রেসওয়ে ও ২১ পরিবহন হাবের মহাপরিকল্পনা ‘বিজয় অথবা শহীদ’ পোস্টের পরই গুলিতে প্রাণ হারান রাকিব ঢামেকে সংঘর্ষের পর শান্তা ফারজানাসহ ৬ নেতা পুলিশ হেফাজতে গোহাইল রোডে স্বস্তির ছোঁয়া, শুরু হলো জরুরি সংস্কার ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নেই গড়ে উঠবে নতুন বাংলাদেশ’ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা, নিষিদ্ধ সংগঠনের ওপর থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঐক্য, সাহস ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান: শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বিশ্ব যা বলেছিল

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে লাখো মানুষ রাজধানীতে সমবেত হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। ওই দিন বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, কানাডা, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মহল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়।

ভারতের পদক্ষেপ

শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর নয়াদিল্লি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক মন্তব্য করেনি। তবে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটারজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়।

যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়া

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকার আন্দোলনের সময় নিহত ছাত্র, শিক্ষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে।

আরও পড়ুনঃ  ‘জামিনে মুক্ত’ বেনজীরকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের দ্রুত মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় যুক্তরাজ্যের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড লামি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন জাতিসংঘ-নেতৃত্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতিতে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে।

তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, যদি সেনাবাহিনী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে থাকে, তবে সেটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

আরও পড়ুনঃ  খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা হান্নান গ্রেপ্তার

হোয়াইট হাউসও এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের আহ্বান জানায় এবং সেনাবাহিনীর সংযমের প্রশংসা করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আহ্বান

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

সংস্থাটি সব পক্ষকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি পূর্ণ সম্মান বজায় রাখার তাগিদ দেয়।

জার্মানির মন্তব্য

জার্মানি তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানায়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

কানাডার প্রতিক্রিয়া

কানাডার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নিন্দা জানান।

তিনি ক্ষমতার পরিবর্তনের সময় সব পক্ষকে ধৈর্য, সংযম এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুনঃ  উন্মোচনের আগেই ফাঁস আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের সম্ভাব্য ফিচার, থাকছে শক্তিশালী চিপ ও ক্যামেরায় বড় আপগ্রেড

শ্রীলঙ্কার বার্তা

শ্রীলঙ্কার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি সাবরে এক বার্তায় বাংলাদেশের জনগণের ঐক্য ও সহনশীলতার প্রশংসা করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে এবং সংকট কাটিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা আশা করছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দ্রুত সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে ফিরে আসবে এবং দেশটি স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যাবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ শুধু বাংলাদেশের রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণ উত্তরণ, মানবাধিকার রক্ষা, সংযম এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখার বিষয়গুলোই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

নতুন ফ্যাসিবাদের চেষ্টা হলে জনগণই প্রতিরোধ গড়বে: জামায়াত আমির

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান: শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বিশ্ব যা বলেছিল

আপডেটের সময়: ০৭:৩৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে লাখো মানুষ রাজধানীতে সমবেত হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। ওই দিন বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, কানাডা, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মহল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়।

ভারতের পদক্ষেপ

শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর নয়াদিল্লি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক মন্তব্য করেনি। তবে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটারজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়।

যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়া

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকার আন্দোলনের সময় নিহত ছাত্র, শিক্ষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে।

আরও পড়ুনঃ  কোটি টাকায় বিক্রি হলো বিটিএস তারকা জিমিনের ব্যবহৃত শার্ট

বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের দ্রুত মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় যুক্তরাজ্যের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড লামি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন জাতিসংঘ-নেতৃত্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতিতে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে।

তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, যদি সেনাবাহিনী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে থাকে, তবে সেটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

আরও পড়ুনঃ  ‘জামিনে মুক্ত’ বেনজীরকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

হোয়াইট হাউসও এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের আহ্বান জানায় এবং সেনাবাহিনীর সংযমের প্রশংসা করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আহ্বান

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

সংস্থাটি সব পক্ষকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি পূর্ণ সম্মান বজায় রাখার তাগিদ দেয়।

জার্মানির মন্তব্য

জার্মানি তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানায়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

কানাডার প্রতিক্রিয়া

কানাডার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নিন্দা জানান।

তিনি ক্ষমতার পরিবর্তনের সময় সব পক্ষকে ধৈর্য, সংযম এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুনঃ  ১৮ বছরেও মেলেনি ফ্ল্যাট, ডোম-ইনোর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে নিঃস্ব শতাধিক পরিবার

শ্রীলঙ্কার বার্তা

শ্রীলঙ্কার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি সাবরে এক বার্তায় বাংলাদেশের জনগণের ঐক্য ও সহনশীলতার প্রশংসা করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে এবং সংকট কাটিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা আশা করছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দ্রুত সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে ফিরে আসবে এবং দেশটি স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যাবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ শুধু বাংলাদেশের রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণ উত্তরণ, মানবাধিকার রক্ষা, সংযম এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখার বিষয়গুলোই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।