পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় ও দীর্ঘতম সূরা আল-বাকারা। মানবসৃষ্টির ঘটনা, হজরত আদম (আ.)-কে সিজদার নির্দেশ অমান্য করে ইবলিসের প্রত্যাখ্যানসহ মানুষের জীবন, বিশ্বাস ও নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এ সূরায় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূরা আল-বাকারার ৯৮ নম্বর আয়াতেও ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এ আয়াতে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের পাশাপাশি তাঁর ফেরেশতা ও রাসূলদের প্রতি ঈমান রাখার গুরুত্ব স্পষ্ট করা হয়েছে।
আয়াতে যা বলা হয়েছে
মহান আল্লাহ বলেন, যারা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর রাসূলগণ এবং বিশেষভাবে জিবরাঈল (আ.) ও মীকাঈল (আ.)-এর শত্রুতা করে, তাদের প্রতি সতর্কবার্তা রয়েছে। আয়াতের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন অবস্থান গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকেও কঠোর সতর্কতা রয়েছে।
এই আয়াতের মাধ্যমে ঈমানের একটি মৌলিক বিষয় স্পষ্ট হয়। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপনের পাশাপাশি তাঁর প্রেরিত নবী-রাসূল ও ফেরেশতাদের প্রতিও বিশ্বাস রাখা ঈমানের অপরিহার্য অংশ।
ফেরেশতাদের প্রতি ঈমানের গুরুত্ব
ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের মধ্যে ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান অন্যতম। আল্লাহর নির্দেশে তাঁরা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের প্রতি অবিশ্বাস বা বিদ্বেষ পোষণ করা ঈমানের মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিশেষ করে জিবরাঈল (আ.) ও মীকাঈল (আ.)-এর নাম উল্লেখ করে আয়াতটিতে এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
ঈমান শুধু বিশ্বাসের নাম নয়
আয়াতটির শিক্ষা হলো, আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস স্থাপন করাই ঈমানের পূর্ণতা নয়। তাঁর প্রেরিত রাসূলগণ এবং ফেরেশতাদের প্রতিও বিশ্বাস রাখা জরুরি। ইসলামের মৌলিক আকিদার ক্ষেত্রে এ বিশ্বাসের গুরুত্ব অপরিসীম।
আয়াতে আরও সতর্ক করা হয়েছে, কেউ যদি আল্লাহ, তাঁর রাসূলগণ কিংবা তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে, তাহলে সে অবস্থান আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়। আয়াতের ভাষায়, যারা এমন অবস্থান গ্রহণ করে, আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
তাই একজন মুমিনের জন্য আল্লাহ, তাঁর রাসূলগণ ও ফেরেশতাদের প্রতি যথাযথ ঈমান রাখা এবং সেই বিশ্বাস অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর ওপর, তাঁর রাসূলগণ ও ফেরেশতাদের ওপর যথাযথ ঈমান আনার এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।
প্রতিবেদকের নাম 




















