তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও আগস্টে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। তবে বাস্তব উৎপাদন পরিস্থিতির সঙ্গে এই পরিসংখ্যানের মিল খুঁজে পাচ্ছেন না খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। নানা সংকটের কারণে গত অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি কমেছিল ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৯২ শতাংশ।
এর মধ্যেই দেশে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়, এমনকি কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে আগস্টে পোশাক রপ্তানিতে প্রায় ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।
খাতভিত্তিক হিসাবে, আগস্টে নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। একই সময়ে ওভেন পোশাকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ১২ শতাংশের মতো।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রপ্তানির এই পরিসংখ্যান তাদের কাছে কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত বা গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না।
তিনি জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেক কারখানায় গত বছরের তুলনায় উৎপাদন ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। পাশাপাশি ক্রয়াদেশও কমেছে। তার মতে, কাঁচামালের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যভিত্তিক হিসাবে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে।
নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী থাকায় সামান্য বৃদ্ধিও পরিসংখ্যানে বড় উল্লম্ফন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ট্রাম্প ট্যারিফের প্রভাবে ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা কমেছে। এর প্রভাব পড়ছে ক্রয়াদেশেও। ফলে আগস্টের এই প্রবৃদ্ধিকে পোশাক খাতের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পোশাক রপ্তানির এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান জরুরি। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং নতুন বাজার তৈরিতে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
তাদের মতে, রপ্তানি খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য শুধু পরিসংখ্যানের উন্নতি নয়, বরং উৎপাদন, ক্রয়াদেশ ও কারখানার বাস্তব পরিস্থিতির উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রতিবেদকের নাম 


















