বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য সুখবর দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
গত কয়েক বছর ধরে বিপিএলকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক সময়মতো পরিশোধ না করা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। সর্বশেষ আসর শেষ হওয়ার পরও অনেক ক্রিকেটার তাদের প্রাপ্য অর্থ পুরোপুরি পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিপিএলকে নতুন কাঠামোয় ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। প্রয়োজনে আসন্ন মৌসুমে বিপিএল আয়োজন না করার বিষয়টিও আলোচনায় ছিল। এরই মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে ম্যাচ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিসিবির কমিটির বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সভাপতি তামিম ইকবাল। নতুন পারিশ্রমিক কাঠামো নিয়ে তিনি জানান, এখন থেকে চার দিনের প্রথম শ্রেণির ম্যাচে একজন ক্রিকেটার পাবেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ওয়ানডেতে ম্যাচ ফি ১ লাখ টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তামিম বলেন, ‘৬০ জন ক্রিকেটারের জন্য না, সবার জন্য করব। নতুন একটা টুর্নামেন্ট হবে, সব ম্যাচ বাড়বে। তবে আমি আসার পর একবার বাড়িয়েছিলাম অ্যাডহক কমিটিতে থাকা অবস্থায়। এরপর কিন্তু কোনো ম্যাচ হয়নি। নতুন করে আগামী চার দিনের ম্যাচে এখন থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাবে। ওয়ানডে ম্যাচ ১ লাখ টাকা, টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা।’
নারী ক্রিকেটেও বাড়ছে ম্যাচ ফি
পুরুষ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি নারী ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। একই সঙ্গে নারী ক্রিকেটের তিন দিনের ম্যাচকে চার দিনের ফরম্যাটে রূপান্তর করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘নারীদের ক্রিকেটে তিন দিনের ম্যাচ ছিল, সেটা এখন চার দিনের হবে। আগে ছিল ২০ হাজার টাকা, সেটা এখন ৪০ হাজার টাকা। ওয়ানডেতে ৩০ হাজার টাকা। টি-টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা।’
অর্থাৎ, নারী ক্রিকেটে চার দিনের ম্যাচের পারিশ্রমিক দ্বিগুণ করে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। ওয়ানডেতে একজন ক্রিকেটার পাবেন ৩০ হাজার এবং টি-টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা।
বিপিএলের বিকল্প হিসেবে বড় হচ্ছে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি
বিপিএল আয়োজন না হলে ঘরোয়া ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতাকে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিসিবি। বর্তমানে এনসিএল টি-টোয়েন্টি নামে পরিচিত এই আসরকে নতুন কাঠামো ও পরিচয়ে মাঠে নামানোর চিন্তাভাবনা চলছে।
বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন টুর্নামেন্টটির সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। এই প্রতিযোগিতায় প্রচলিত বিভাগভিত্তিক দল না রেখে ছয়টি দল নিয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দল কেনার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। দল কিনে নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দলের নাম নির্ধারণ করতে পারবে। এর মাধ্যমে বিপিএল না থাকলেও ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা ও ক্রিকেটারদের আয়ের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বিসিবির।
প্রতিবেদকের নাম 

























