বিশ্ববাজারে কফির মজুত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন আন্তর্জাতিক পণ্য ব্যবসায়ীরা। এর অংশ হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ কফি উৎপাদক ব্রাজিল থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জের (আইসিই) অনুমোদিত গুদামগুলোতে প্রায় ৩ লাখ ব্যাগ অ্যারাবিকা কফি পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন মজুত
প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ফসল সংগ্রহে বিলম্বের কারণে আইসিই অনুমোদিত গুদামে প্রত্যয়িত কফির মজুত দ্রুত কমে বর্তমানে ২ লাখ ২০ হাজার ব্যাগের নিচে নেমেছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এসব গুদামে প্রায় ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যাগ কফি মজুত থাকত।
মজুতের এই সংকটের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। গত জুলাইয়ে অ্যারাবিকা কফির দাম প্রতি পাউন্ডে ৩ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। বর্তমানে কিছুটা কমলেও দাম এখনও প্রতি পাউন্ডে প্রায় ৩ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-২৭ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী কফির উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও বাজারে তাৎক্ষণিক সরবরাহের ঘাটতি থাকায় দামের ওপর চাপ এখনো রয়ে গেছে।
বেলজিয়ামের গুদাম গুরুত্বপূর্ণ
এক্সচেঞ্জে প্রত্যয়িত কফির প্রায় ৭০ শতাংশই বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প বন্দরের গুদামগুলোতে সংরক্ষিত থাকে। এসব গুদামে কফির মজুত বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক তহবিলগুলোর বিক্রির প্রবণতা বাড়তে পারে, যা বাজারে দ্রুত দরপতনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ কারণে অ্যান্টওয়ার্পের গুদামগুলোতে নতুন করে কফি পাঠানোর বিষয়টি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্রাজিল থেকে রপ্তানি বেড়েছে
বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিশ্বের অন্যতম বড় কৃষিবাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওলাম এবং লুই ড্রেফাস কোম্পানি আগামী ডিসেম্বরের ফিউচার চুক্তির বিপরীতে সরবরাহের জন্য আইসিইর গুদামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কফি নিবন্ধনের চেষ্টা করছে।
ব্রাজিলের ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান টেরা ইনভেস্টিমেন্তোসের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে ব্রাজিল থেকে বেলজিয়ামে কফি রপ্তানি আগের তুলনায় ২৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৩১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার ব্যাগ।
এরই মধ্যে ব্রাজিল থেকে পাঠানো ৬২ হাজারের বেশি ব্যাগ কফি বেলজিয়ামের বিভিন্ন ডিপোতে পৌঁছেছে। সেগুলো এখন গুণগত মান যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
মজুত দ্বিগুণের বেশি হওয়ার আশা
নতুন করে প্রায় ৩ লাখ ব্যাগ কফি আইসিইর গুদামে পৌঁছালে মোট মজুত কাঙ্ক্ষিত ১০ লাখ ব্যাগে পৌঁছাবে না। তবে বর্তমান মজুতের তুলনায় তা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি করবে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের আশা, বড় এই চালান গুদামগুলোর সরবরাহ সংকট কিছুটা কমাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কফির অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের চাপ প্রশমনে ভূমিকা রাখবে। তবে উৎপাদন, আবহাওয়া ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপরই শেষ পর্যন্ত কফির বৈশ্বিক দামের গতিপথ অনেকটা নির্ভর করবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















