ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাজীপুরে গরুবাহী ট্রাক-বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে অভিনেত্রী রিধিকার মরদেহ উদ্ধার অশোভন আচরণের অভিযোগে পুত্রবধূর রাজকীয় উপাধি কেড়ে নিলেন ব্রুনাইয়ের সুলতান খারগ দ্বীপে আবারও ট্যাংকারে অপরিশোধিত তেল তুলছে ইরান ইমাম-মুয়াজ্জিন-সেবায়েতদের সম্মানি বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী কিস্তির টাকা নিয়ে বিরোধ, শ্রীপুরে সিএনজি চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী হরমুজ ঘিরে নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের, ইরানের ওপর বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ পশ্চিম তীরে সেটেলার সহিংসতা বাড়ছে, ইসরায়েলি রাষ্ট্রের মদদের অভিযোগ অ্যামনেস্টির আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি এখন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

গুলিতে বদলে গেছে জীবন, চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম জুলাইযোদ্ধা ইমরানের পরিবার

জীবনের স্বপ্ন ছিল পরিবারের অভাব ঘোচাবেন। রিকশাচালক বাবা ও পোশাকশ্রমিক মাকে একটু স্বস্তি দিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন ২৩ বছর বয়সী ইমরান হোসেন। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার সেই স্বপ্ন থমকে গেছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর প্রাণে বেঁচে ফিরলেও স্বাভাবিক জীবনে আর ফিরতে পারেননি তিনি।

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের চর সুখনগরী তালতলা এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন বিল্লাল হোসেনের বড় ছেলে। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। নিজেদের বাড়িঘর না থাকায় নানাবাড়িতেই বেড়ে উঠেছেন। ২০২০ সালে তারতাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২৩ সালে মাহমুদা বেলাল বিএম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে না পেরে পরিবারের হাল ধরতে ২০২৪ সালের জুনে ঢাকার আশুলিয়ায় মায়ের কাছে যান। সেখানে জনতা কুরিয়ার সার্ভিসে ডেলিভারিকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

এরপর দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে নিজেকে ঘরে আটকে রাখতে পারেননি ইমরান। আন্দোলনে যোগ দেন তিনি।

মাথায় লাগে তিনটি গুলি

৪ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় সামনের সারিতে ছিলেন ইমরান। এ সময় তার মাথায় তিনটি গুলি লাগে। গুলির আঘাতে মাথার খুলি তিন খণ্ড হয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  চুয়েটে পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

সেখানে টানা ২৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফেরেন তিনি। মাথায় দিতে হয় ২০টি সেলাই। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাথার খুলির ভাঙা অংশ জোড়া লাগাতে কৃত্রিম প্লেট বসানো হয়।

কিন্তু সেই চিকিৎসার পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি ইমরান।

সারাক্ষণ মাথায় যন্ত্রণা, হারিয়েছেন স্মৃতিশক্তিও

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরানের মাথায় সবসময় তীব্র ব্যথা থাকে। সামান্য স্পর্শেও অসহ্য যন্ত্রণায় কাতর হয়ে ওঠেন তিনি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। ডান কানে এখন আর শব্দ শুনতে পান না এবং কানে পানি জমে সংক্রমণও হচ্ছে।

এ ছাড়া মাথায় গুরুতর আঘাতের পর তার আচরণ ও স্মৃতিতেও পরিবর্তন এসেছে। কথায় কথায় রেগে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়া এবং পরিচিত মানুষকেও কখনো চিনতে না পারার মতো সমস্যায় ভুগছেন তিনি।

ইমরানের বাবা বিল্লাল হোসেন জানান, চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন, মাথার খুলির ক্ষতিগ্রস্ত অংশের জন্য ভবিষ্যতে আবার অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিম খুলি বসাতে হতে পারে। এ জন্য অপারেশনের দিন প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

মাসে ২০ হাজার টাকায় চলছে না চিকিৎসা

পরিবারের দাবি, জুলাই আন্দোলনে আহত হিসেবে ইমরান বর্তমানে সরকারের কাছ থেকে মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পান। কয়েক মাস আগে তার বাবা বিল্লাল হোসেনকে একটি অটোরিকশাও দেওয়া হয়েছে। সেটি চালিয়ে তিনি সংসারের খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুনঃ  সালমান-শাবনূরের প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন নীলা চৌধুরী

কিন্তু ইমরানকে মাসে এক থেকে তিনবার পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য জামালপুর থেকে ঢাকায় নিতে হয়। যাতায়াত, ওষুধ ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে ভাতার পুরো টাকাই শেষ হয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি।

ইমরানের মা নাজরিন আগে পোশাক কারখানায় কাজ করলেও বর্তমানে ছেলের দেখাশোনার জন্য বাড়িতে থাকেন। অন্যদিকে অটোরিকশা চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে ইমরানের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে বিল্লাল হোসেনকে।

‘দেশ স্বাধীন হলো, আমার জীবনের দায়িত্ব কে নেবে?’

নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইমরান বলেন, ৪ আগস্ট তার স্বাভাবিক জীবন শেষ হয়ে গেছে। দেশকে মুক্ত করার আন্দোলনে গিয়ে আজ তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন। কোনো কিছু মনে থাকে না, মাথায় হাত দিলেই যন্ত্রণা হয়। দিন দিন বাবা-মায়ের ওপর বোঝা হয়ে উঠছেন বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।

ইমরানের আকুতি, তার মতো আহত জুলাইযোদ্ধাদের পরিবারগুলোর দিকে সরকার যেন নজর দেয় এবং তাদের চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ জীবনের নিশ্চয়তা দেয়।

পরিবারের দাবি চাকরি ও বাড়তি সহায়তার

ইমরানের পরিবার তার চিকিৎসার পুরো খরচ বহনের পাশাপাশি মাসিক ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি বা স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ করেছে তারা।

আরও পড়ুনঃ   আজ টিভিতে যেসব খেলা দেখতে পারবেন

ইমরানের বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, তিনি নিজে অটোরিকশা পেয়েছেন এবং মাসে ২০ হাজার টাকা পান। কিন্তু সাত সদস্যের সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের কাছে পরিবারের একজন সদস্যের জন্য হলেও চাকরির ব্যবস্থা করার আবেদন জানান তিনি।

ইমরানের নানা সুলতানুর রহমানও তার চিকিৎসা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য, অভাব ঘোচাতে ঢাকায় যাওয়া ছেলেটি এখন বিছানায় পড়ে আছে। ভাতার টাকা ওষুধ কিনতেই শেষ হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারাও ইমরানের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া, ভাতা বাড়ানো এবং তার পরিবারের একজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

আবেদন পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে প্রশাসন

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, ইমরান জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তি হিসেবে মাসিক ভাতা পাচ্ছেন। তবে ভাতা বৃদ্ধি বা তাকে কিংবা তার পরিবারের কাউকে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে বর্তমানে কোনো সরকারি নির্দেশনা তাদের কাছে নেই।

তবে পরিবার লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গাজীপুরে গরুবাহী ট্রাক-বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩

গুলিতে বদলে গেছে জীবন, চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম জুলাইযোদ্ধা ইমরানের পরিবার

আপডেটের সময়: ০৫:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

জীবনের স্বপ্ন ছিল পরিবারের অভাব ঘোচাবেন। রিকশাচালক বাবা ও পোশাকশ্রমিক মাকে একটু স্বস্তি দিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন ২৩ বছর বয়সী ইমরান হোসেন। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার সেই স্বপ্ন থমকে গেছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর প্রাণে বেঁচে ফিরলেও স্বাভাবিক জীবনে আর ফিরতে পারেননি তিনি।

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের চর সুখনগরী তালতলা এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন বিল্লাল হোসেনের বড় ছেলে। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। নিজেদের বাড়িঘর না থাকায় নানাবাড়িতেই বেড়ে উঠেছেন। ২০২০ সালে তারতাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২৩ সালে মাহমুদা বেলাল বিএম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে না পেরে পরিবারের হাল ধরতে ২০২৪ সালের জুনে ঢাকার আশুলিয়ায় মায়ের কাছে যান। সেখানে জনতা কুরিয়ার সার্ভিসে ডেলিভারিকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

এরপর দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে নিজেকে ঘরে আটকে রাখতে পারেননি ইমরান। আন্দোলনে যোগ দেন তিনি।

মাথায় লাগে তিনটি গুলি

৪ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় সামনের সারিতে ছিলেন ইমরান। এ সময় তার মাথায় তিনটি গুলি লাগে। গুলির আঘাতে মাথার খুলি তিন খণ্ড হয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স

সেখানে টানা ২৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফেরেন তিনি। মাথায় দিতে হয় ২০টি সেলাই। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাথার খুলির ভাঙা অংশ জোড়া লাগাতে কৃত্রিম প্লেট বসানো হয়।

কিন্তু সেই চিকিৎসার পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি ইমরান।

সারাক্ষণ মাথায় যন্ত্রণা, হারিয়েছেন স্মৃতিশক্তিও

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরানের মাথায় সবসময় তীব্র ব্যথা থাকে। সামান্য স্পর্শেও অসহ্য যন্ত্রণায় কাতর হয়ে ওঠেন তিনি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। ডান কানে এখন আর শব্দ শুনতে পান না এবং কানে পানি জমে সংক্রমণও হচ্ছে।

এ ছাড়া মাথায় গুরুতর আঘাতের পর তার আচরণ ও স্মৃতিতেও পরিবর্তন এসেছে। কথায় কথায় রেগে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়া এবং পরিচিত মানুষকেও কখনো চিনতে না পারার মতো সমস্যায় ভুগছেন তিনি।

ইমরানের বাবা বিল্লাল হোসেন জানান, চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন, মাথার খুলির ক্ষতিগ্রস্ত অংশের জন্য ভবিষ্যতে আবার অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিম খুলি বসাতে হতে পারে। এ জন্য অপারেশনের দিন প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

মাসে ২০ হাজার টাকায় চলছে না চিকিৎসা

পরিবারের দাবি, জুলাই আন্দোলনে আহত হিসেবে ইমরান বর্তমানে সরকারের কাছ থেকে মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পান। কয়েক মাস আগে তার বাবা বিল্লাল হোসেনকে একটি অটোরিকশাও দেওয়া হয়েছে। সেটি চালিয়ে তিনি সংসারের খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুনঃ  কঠোর হচ্ছে সুগন্ধি চাল রপ্তানির শর্ত, ৩ দিনের মধ্যে দিতে হবে তথ্য

কিন্তু ইমরানকে মাসে এক থেকে তিনবার পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য জামালপুর থেকে ঢাকায় নিতে হয়। যাতায়াত, ওষুধ ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে ভাতার পুরো টাকাই শেষ হয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি।

ইমরানের মা নাজরিন আগে পোশাক কারখানায় কাজ করলেও বর্তমানে ছেলের দেখাশোনার জন্য বাড়িতে থাকেন। অন্যদিকে অটোরিকশা চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে ইমরানের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে বিল্লাল হোসেনকে।

‘দেশ স্বাধীন হলো, আমার জীবনের দায়িত্ব কে নেবে?’

নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইমরান বলেন, ৪ আগস্ট তার স্বাভাবিক জীবন শেষ হয়ে গেছে। দেশকে মুক্ত করার আন্দোলনে গিয়ে আজ তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন। কোনো কিছু মনে থাকে না, মাথায় হাত দিলেই যন্ত্রণা হয়। দিন দিন বাবা-মায়ের ওপর বোঝা হয়ে উঠছেন বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।

ইমরানের আকুতি, তার মতো আহত জুলাইযোদ্ধাদের পরিবারগুলোর দিকে সরকার যেন নজর দেয় এবং তাদের চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ জীবনের নিশ্চয়তা দেয়।

পরিবারের দাবি চাকরি ও বাড়তি সহায়তার

ইমরানের পরিবার তার চিকিৎসার পুরো খরচ বহনের পাশাপাশি মাসিক ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি বা স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ করেছে তারা।

আরও পড়ুনঃ  শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু

ইমরানের বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, তিনি নিজে অটোরিকশা পেয়েছেন এবং মাসে ২০ হাজার টাকা পান। কিন্তু সাত সদস্যের সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের কাছে পরিবারের একজন সদস্যের জন্য হলেও চাকরির ব্যবস্থা করার আবেদন জানান তিনি।

ইমরানের নানা সুলতানুর রহমানও তার চিকিৎসা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য, অভাব ঘোচাতে ঢাকায় যাওয়া ছেলেটি এখন বিছানায় পড়ে আছে। ভাতার টাকা ওষুধ কিনতেই শেষ হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারাও ইমরানের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া, ভাতা বাড়ানো এবং তার পরিবারের একজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

আবেদন পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে প্রশাসন

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, ইমরান জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তি হিসেবে মাসিক ভাতা পাচ্ছেন। তবে ভাতা বৃদ্ধি বা তাকে কিংবা তার পরিবারের কাউকে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে বর্তমানে কোনো সরকারি নির্দেশনা তাদের কাছে নেই।

তবে পরিবার লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।