ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ডনের অন্তরঙ্গ ছবি নিয়ে যা বললেন সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম শাহজালালের কঠোর নিরাপত্তা পেরিয়ে ৩১ রাউন্ড তাজা গুলিসহ বিমানে ব্যবসায়ী ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চরম মানসিক চাপে মার্কিন নৌসেনারা ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, ইউএনওকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর পুনর্বহালসহ ৪ দাবি ঢাকা ট্যাক্সেস বারের রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক যুগ্ম সচিব জগলুল পাশা রাজধানীতে নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু, আহত ২ গ্যাস সংকটে জামালপুর-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে চালকদের অবরোধ বগুড়ায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক দিয়ে তৈরি ৩০ কেজি জিলাপি ধ্বংস
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা, ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার তাগিদ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:১১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৩ সময় দেখুন

ঢাকা-দিল্লির সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তবে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের অবস্থান আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ফের অস্বস্তি তৈরি হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্বেগ জানালেও ভারত দাবি করেছে, ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনে তাদের সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না।

এর মধ্যেই ঢাকায় সফর করেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন। একই সময়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সময় ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এ দুই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য বিমান ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড়

প্রশ্ন উঠেছে, এসব তৎপরতা কি কেবল নিয়মিত কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা যোগাযোগ, নাকি বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার বৃহত্তর উদ্যোগ?

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ ও কার্যক্রম অতীতে যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, বর্তমান বাস্তবতায় তা আর আগের মতো চলবে না। বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রীয় অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়েই ভবিষ্যতের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ডা. জাহেদ রহমানও ভারতীয় হাইকমিশনার ও ‘র’-প্রধানের সাম্প্রতিক সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এসব তৎপরতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার অংশ।

আরও পড়ুনঃ  মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ছাড়

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন না এলে দুই দেশের সম্পর্কের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়। পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে ভারতের অবস্থান ও নীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশ্লেষক ও দিল্লির ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডা. শ্রীরাধা দত্ত মনে করেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমেই সেগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব।

তাঁর মতে, কোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয়। এক পক্ষ নিজের অবস্থান তুলে ধরবে, অন্য পক্ষ তা শুনবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথ খুঁজবে—এভাবেই সম্পর্ক এগিয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার মহড়ার আগে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা, সীমান্ত, বাণিজ্যসহ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় ঢাকা-দিল্লির মধ্যে যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হলেও তা শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। দুই দেশের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং বাস্তবসম্মত সমঝোতাই হতে পারে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রধান ভিত্তি।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ডনের অন্তরঙ্গ ছবি নিয়ে যা বললেন সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা, ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার তাগিদ

আপডেটের সময়: ১১:১১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা-দিল্লির সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তবে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের অবস্থান আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ফের অস্বস্তি তৈরি হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্বেগ জানালেও ভারত দাবি করেছে, ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনে তাদের সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না।

এর মধ্যেই ঢাকায় সফর করেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন। একই সময়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সময় ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এ দুই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার মহড়ার আগে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

প্রশ্ন উঠেছে, এসব তৎপরতা কি কেবল নিয়মিত কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা যোগাযোগ, নাকি বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার বৃহত্তর উদ্যোগ?

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ ও কার্যক্রম অতীতে যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, বর্তমান বাস্তবতায় তা আর আগের মতো চলবে না। বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রীয় অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়েই ভবিষ্যতের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ডা. জাহেদ রহমানও ভারতীয় হাইকমিশনার ও ‘র’-প্রধানের সাম্প্রতিক সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এসব তৎপরতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার অংশ।

আরও পড়ুনঃ  মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ছাড়

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন না এলে দুই দেশের সম্পর্কের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়। পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে ভারতের অবস্থান ও নীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশ্লেষক ও দিল্লির ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডা. শ্রীরাধা দত্ত মনে করেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমেই সেগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব।

তাঁর মতে, কোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয়। এক পক্ষ নিজের অবস্থান তুলে ধরবে, অন্য পক্ষ তা শুনবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথ খুঁজবে—এভাবেই সম্পর্ক এগিয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  স্ট্রেচারে আদালতে আত্মসমর্পণ, অসুস্থ আসামিকে চিকিৎসার পরামর্শ বিচারকের

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা, সীমান্ত, বাণিজ্যসহ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় ঢাকা-দিল্লির মধ্যে যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হলেও তা শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। দুই দেশের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং বাস্তবসম্মত সমঝোতাই হতে পারে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রধান ভিত্তি।