দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেকারত্বের সঙ্গে লড়াই করছেন। সরকারি চাকরির আশায় বছরের পর বছর অপেক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন। অথচ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৫ লাখেরও বেশি পদ শূন্য রয়েছে, যা জনসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রণীত ‘স্ট্যাটিসটিকস অব সিভিল অফিসার্স অ্যান্ড স্টাফ-২০২৫’-এর খসড়া অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন বেসামরিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত ১৯ লাখ ৮৬ হাজার পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৪ লাখ ৬৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ ২২ হাজার পদ শূন্য রয়েছে।
এদিকে জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি সরকারি পদ শূন্য রয়েছে। যদিও এই তথ্য ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা।
গ্রেডভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, গ্রেড ১–৯ পর্যায়ে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, গ্রেড ১০–১২ পর্যায়ে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, গ্রেড ১৩–১৬ পর্যায়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং গ্রেড ১৭–২০ পর্যায়ে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য শ্রেণিতে আরও ৮ হাজার ১৩৬টি পদ খালি রয়েছে। সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ রয়েছে মাঠপর্যায়ের সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রেড ১৩–২০ পর্যায়ে।
সরকার জানিয়েছে, শূন্য পদ পূরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি—দুই বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে স্বচ্ছ ও দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে সরকারি চাকরিতে শূন্য পদের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজারে পৌঁছায়। ২০২৩ সালেও প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার পদ খালি ছিল।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়ে ২৭ লাখ ৩০ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার বেশি। অর্থনীতিবিদদের অনেকের মতে, প্রকৃত বেকারের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, নিয়োগ বিধির জটিলতা, সমন্বয়হীনতা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থা ধীরগতির হয়ে পড়েছে। তার মতে, শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা গেলে প্রায় ৫ লাখ পরিবারের ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে বেকারত্ব কমবে এবং সরকারি সেবার মানও উন্নত হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















