চার দিন বন্ধ থাকার পর চালু হতেই চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে ডুবোচরে আটকা পড়েছে ফেরি ‘কপোতাক্ষ’। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার পরপরই নাব্যতা সংকটে পলিমাটিতে আটকে যায় ফেরিটি।
এতে ফেরিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি মাঝসমুদ্রে আটকে থাকায় রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের।
ফেরিটিতে দুটি যাত্রীবাহী বাস, সাতটি ছোট-বড় ট্রাক এবং বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) প্রায় ১০০ যাত্রী থাকার কথা জানালেও একাধিক যাত্রীর দাবি, ফেরিতে অন্তত ৩০০ জন আরোহী রয়েছেন।
যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, ক্যানটিনে পর্যাপ্ত খাবার নেই। আবার সংকটের সুযোগ নিয়ে সাধারণ শুকনো খাবারও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
এক যাত্রী আরমান জারিফ বলেন, চারদিকে পানি ও থকথকে কাদা থাকায় ফেরি থেকে নেমে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ক্যানটিনে খাবারের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেশি নেওয়া হচ্ছে। তার অভিযোগ, ১০ টাকার চানাচুরের প্যাকেট ২৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
আরেক যাত্রী ওমর ফারুক বলেন, অন্ধকারের মধ্যে সাগরে আটকে থাকায় সবার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কখন চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
জোয়ারে ভেসে ওঠার আশা
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে মূল ভূখণ্ডের দিকে প্রায় ৩০০ মিটার ভেতরে পন্টুন স্থাপন করা হলেও নিয়মিত খনন না করায় সেখানে নাব্যতা সংকট তীব্র হয়েছে। ফলে ভরা জোয়ার ছাড়া পন্টুনে ফেরি প্রবেশ ও বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
ফেরির মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানান, রাতের জোয়ার এলে ফেরিটি ভেসে উঠতে পারে। তখন আবার বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে যাত্রা করা সম্ভব হবে।
তবে জোয়ার-ভাটার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে ফেরি চালানোর ঘটনায় মাস্টারের গাফিলতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক ও পোর্ট অফিসার নয়ন শীল। তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় ফেরি চলাচলের ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটার সময়সূচি অনুযায়ী চলতে হয়। এ ক্ষেত্রে ফেরির মাস্টার দায়ী।
এদিকে বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌহান জানান, রাতের জোয়ারে ফেরিটি নিজে থেকে ভেসে না উঠলে টাগবোটের সহায়তায় সেটিকে উদ্ধার করা হবে।
এর আগে আবহাওয়া সতর্কতার কারণে টানা চার দিন এই রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে ঘাট ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই বিপত্তিতে পড়ে ‘কপোতাক্ষ’।
এর আগেও ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর একই স্থানে ফেরিটি ডুবোচরে আটকা পড়েছিল। সে সময় প্রায় ২৫ ঘণ্টা পর তিনটি টাগবোটের সহায়তায় ফেরিটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
প্রতিবেদকের নাম 




















