মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের মাত্র দেড় মাসের মাথায় ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধের সিসি ব্লকের একটি অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত রোববার বিকেলে গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গাঁওদিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে হঠাৎ করেই তীররক্ষা বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ে। কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই বাঁধের সুরক্ষায় বসানো সিসি ব্লক নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। এতে বাঁধের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আরও বড় ধরনের ভাঙনের শঙ্কা তৈরি হয়।
দীর্ঘদিন পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এ অঞ্চলের মানুষ নতুন বাঁধ নির্মাণের পর স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলেন। তবে নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ধস দেখা দেওয়ায় সেই স্বস্তি আবারও উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ খান বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে পদ্মার ভাঙনে তিনি সর্বস্ব হারিয়েছেন। নতুন বাঁধ নির্মাণের পর স্থায়ীভাবে বসবাসের আশা জাগলেও এখন আবার ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রিতা রাণী দে বলেন, বাঁধ নির্মাণের পর নিরাপদে থাকার আশা করেছিলেন, কিন্তু সাম্প্রতিক ধসে সেই নিরাপত্তাবোধ আর নেই। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে মনির চন্দ্র দে জানান, অতীতে নদীভাঙনে তাদের জমিজমা বিলীন হয়েছে। নতুন করে বসতি গড়লেও আবারও ভিটেমাটি হারানোর ভয় দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাগর বলেন, ধসের খবর পেয়ে রাতেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরবাড়ির মালামাল সরিয়ে নিতে হয়েছে।
নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁধে ধস নামায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, বর্ষায় নদীর স্রোত আরও বাড়লে গাঁওদিয়া বাজারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তারা দ্রুত স্থায়ী মেরামতের পাশাপাশি নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। খবর পাওয়ার পরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















