যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানদের পক্ষে প্রচারণা জোরদার করেছেন। এরই অংশ হিসেবে সোমবার নেব্রাস্কার গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে এক সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি ভোটারদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনের আহ্বান জানান।
নেব্রাস্কা ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হলেও এবারের সিনেট নির্বাচন নিয়ে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলকভাবে জমে উঠেছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নেব্রাস্কায় ২০ শতাংশেরও বেশি ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটস ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যান অসবর্নের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেশ হাড্ডাহাড্ডি বলে উঠে এসেছে।
সমাবেশে ট্রাম্প ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাকে যেন ব্যালটে থাকা একজন প্রার্থী হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তার ভাষ্য, নির্বাচনের ফলাফলকে তার প্রশাসনের কর্মদক্ষতা ও অর্থনৈতিক নীতির ওপর গণভোট হিসেবে দেখা উচিত।
এ সময় জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য ও মূল্যস্ফীতির চাপের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। কৃষক ও ট্রাকচালকদের জন্য জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ডিজেল জ্বালানির করমুক্ত সুবিধা আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দেন। তিনি কৃষি ও অন্যান্য নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহৃত করমুক্ত ‘রেড-ডাই ডিজেল’-এর সুযোগ বাড়াতে একটি নির্বাহী আদেশও জারি করেন।
ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের দাবি, তার প্রশাসনের সময় বিনিয়োগ, উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা মূল্যস্ফীতির চাপের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে রিপাবলিকানরা জাতীয় পর্যায়ে কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের অনুমোদনযোগ্যতার হার ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোন দলকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে নিবন্ধিত ভোটারদের ৪৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছেন।
সমাবেশে ট্রাম্প ইরান, ভেনেজুয়েলা, অর্থনীতি এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অন্ধকার ভবিষ্যৎ’ অপেক্ষা করছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
গ্র্যান্ড আইল্যান্ডের সমাবেশে ট্রাম্পের সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। দর্শকসংখ্যা বাড়ায় আয়োজকদের অতিরিক্ত শত শত চেয়ার যোগ করতে হয়। নেব্রাস্কায় ট্রাম্পের উপস্থিতি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ২০১৬ সালের পর তিনি রাজ্যটিতে খুব অল্প কয়েকবার গিয়েছেন এবং ২০২২ সালের পর এটাই ছিল তার প্রথম সফর।
মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ট্রাম্প ইতোমধ্যে টেক্সাস, ওকলাহোমা, আলাবামা ও ওহাইও সফর করেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোট পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ সময় আইওয়া ও মিশিগানেও তার সফরের কথা রয়েছে।
রিপাবলিকানদের জন্য এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন তাই শুধু কংগ্রেসের আসন ধরে রাখার লড়াই নয়; এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জনপ্রিয়তা ও তার অর্থনৈতিক নীতির ওপর ভোটারদের মূল্যায়নেরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
সূত্র : রয়টার্স
প্রতিবেদকের নাম 
























