অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সেটেলারদের সহিংসতা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় সমর্থন রয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানান অ্যামনেস্টির গবেষণা, অ্যাডভোকেসি, নীতি ও প্রচারবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক এরিকা গুয়েভারা রোসাস।
রোসাসের ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরজুড়ে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সেটেলার সহিংসতা ও ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির প্রবণতা আরও তীব্র হচ্ছে।
কুসরায় তিন ফিলিস্তিনি পরিবার অবরুদ্ধ
পশ্চিম তীরের কুসরা এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে রোসাস জানান, সেটেলারদের হামলার পর তিনটি ফিলিস্তিনি পরিবার কয়েক দিন ধরে তাদের বাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বাড়িগুলোতে হামলার পাশাপাশি পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য ও পানির সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অ্যামনেস্টির এই কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে ইসরায়েলি বাহিনী সেটেলারদের সেখানে অবস্থান করার সুযোগ দিয়েছে।
আরও বাড়িতে উচ্ছেদের অভিযোগ
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুসরা গ্রামের তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ি কয়েক দিন ধরে ঘিরে রেখেছে ইসরায়েলি সেটেলাররা। এসব বাড়ির পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা, প্রবেশপথ আটকে দেওয়া এবং খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুটি বাড়ির বাসিন্দাদের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তারা তৃতীয় একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। একই এলাকায় আরও ১১টি বাড়ির বাসিন্দাদেরও বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দা
ঘটনাগুলো নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও নিন্দা দেখা দিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দায়মুক্তির অবসান এবং ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি।
এদিকে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও কুসরার কাছে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি এ ঘটনাকে ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের কর্মকাণ্ডকে অপরাধমূলক বলে মন্তব্য করেন।
সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি
প্রতিবেদকের নাম 



















