ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নতুন ফ্যাসিবাদের চেষ্টা হলে জনগণই প্রতিরোধ গড়বে: জামায়াত আমির হরমুজ প্রণালি চালুর আশায় কমল বিশ্ববাজারে তেলের দাম শুকরিয়া আদায় করে শান্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়া ২০৪৫ সালের ঢাকা: ৮ মেট্রোরেল, ৬ এক্সপ্রেসওয়ে ও ২১ পরিবহন হাবের মহাপরিকল্পনা ‘বিজয় অথবা শহীদ’ পোস্টের পরই গুলিতে প্রাণ হারান রাকিব ঢামেকে সংঘর্ষের পর শান্তা ফারজানাসহ ৬ নেতা পুলিশ হেফাজতে গোহাইল রোডে স্বস্তির ছোঁয়া, শুরু হলো জরুরি সংস্কার ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নেই গড়ে উঠবে নতুন বাংলাদেশ’ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা, নিষিদ্ধ সংগঠনের ওপর থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঐক্য, সাহস ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

‘বিজয় অথবা শহীদ’ পোস্টের পরই গুলিতে প্রাণ হারান রাকিব

বরিশালের বাবুগঞ্জের তরুণ শিক্ষার্থী রাকিব হোসাইন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শেষ মুহূর্তে ফেসবুকে ‘বিজয় অথবা শহীদ’ শিরোনামের একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই সহপাঠীদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নিয়ে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন এই তরুণকে।

রাকিব বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিককাঠি গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেনের ছোট ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও অসুস্থ মা এখনও বিশ্বাস করেন, একদিন ছেলে ফিরে আসবে। আর বাবা প্রতিদিন ছেলের কবরের পাশে গিয়ে নীরবে সময় কাটান।

পরিবার ও সহপাঠীদের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদের ‘বিজয় অথবা শহীদ’ শিরোনামের ফেসবুক পোস্ট নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন রাকিব। এর আগে তিনি নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও আসিফ মাহমুদসহ আন্দোলনের নেতাদের ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘আজ যুদ্ধে যাচ্ছে বাংলাদেশ।’

আরও পড়ুনঃ  দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

এরপর প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর একটি মিছিলে যোগ দেন তিনি। মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্দেশে রওনা হলে সকাল প্রায় ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রাকিবের বড় ভাই আবুল কালাম জানান, সেখানে পুলিশ গুলি চালালে সামনের সারিতে থাকা রাকিব গুলিবিদ্ধ হন। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরদিন বাবুগঞ্জে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

আবুল কালাম জানান, পুলিশের ছোড়া দুটি গুলি রাকিবের পেটে লাগে। এর মধ্যে একটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  অভিজিৎ দীপকের বাবার সম্পদের উৎস তদন্তের দাবি, বিদেশে পড়াশোনার খরচ নিয়ে প্রশ্ন

রাকিব বাবুগঞ্জের খানপুরা আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল এবং বরিশালের ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পরে তিনি সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দশম ব্যাচে বিএসসি অধ্যয়নরত ছিলেন।

সহপাঠী হাসানুল বান্না বলেন, রাকিব শুরু থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন মেধাবী, সাহসী ও প্রতিবাদী। প্রায়ই মিছিলের সামনের সারিতে থাকতেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী তরুণ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন রাকিব। কৃষক বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করা, কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জাহের আলভীর জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

রাকিবের বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছিলেন। আশা ছিল লেখাপড়া শেষ করে একদিন সংসারের দায়িত্ব নেবে। কিন্তু ঘরে ফিরেছে শুধু তার নিথর দেহ। তিনি আরও জানান, আন্দোলনের সময় বড় ছেলের চাকরিও চলে গেছে। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা জানান, উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত শহীদ পরিবারগুলোর খোঁজখবর রাখছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে তাদের সম্মান জানানো হয়। পাশাপাশি রাস্তা নির্মাণ, টিউবওয়েল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকীতে রাকিবকে স্মরণ করে স্বজন ও সহপাঠীরা বলেন, স্বপ্নবাজ এই তরুণের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগাবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

নতুন ফ্যাসিবাদের চেষ্টা হলে জনগণই প্রতিরোধ গড়বে: জামায়াত আমির

‘বিজয় অথবা শহীদ’ পোস্টের পরই গুলিতে প্রাণ হারান রাকিব

আপডেটের সময়: ০৮:০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জের তরুণ শিক্ষার্থী রাকিব হোসাইন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শেষ মুহূর্তে ফেসবুকে ‘বিজয় অথবা শহীদ’ শিরোনামের একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই সহপাঠীদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নিয়ে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন এই তরুণকে।

রাকিব বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিককাঠি গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেনের ছোট ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও অসুস্থ মা এখনও বিশ্বাস করেন, একদিন ছেলে ফিরে আসবে। আর বাবা প্রতিদিন ছেলের কবরের পাশে গিয়ে নীরবে সময় কাটান।

পরিবার ও সহপাঠীদের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদের ‘বিজয় অথবা শহীদ’ শিরোনামের ফেসবুক পোস্ট নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন রাকিব। এর আগে তিনি নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও আসিফ মাহমুদসহ আন্দোলনের নেতাদের ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘আজ যুদ্ধে যাচ্ছে বাংলাদেশ।’

আরও পড়ুনঃ  পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এরপর প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর একটি মিছিলে যোগ দেন তিনি। মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্দেশে রওনা হলে সকাল প্রায় ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রাকিবের বড় ভাই আবুল কালাম জানান, সেখানে পুলিশ গুলি চালালে সামনের সারিতে থাকা রাকিব গুলিবিদ্ধ হন। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরদিন বাবুগঞ্জে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

আবুল কালাম জানান, পুলিশের ছোড়া দুটি গুলি রাকিবের পেটে লাগে। এর মধ্যে একটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  ৪-৫ বছরের মধ্যে অর্থনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা, উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

রাকিব বাবুগঞ্জের খানপুরা আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল এবং বরিশালের ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। পরে তিনি সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দশম ব্যাচে বিএসসি অধ্যয়নরত ছিলেন।

সহপাঠী হাসানুল বান্না বলেন, রাকিব শুরু থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন মেধাবী, সাহসী ও প্রতিবাদী। প্রায়ই মিছিলের সামনের সারিতে থাকতেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী তরুণ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন রাকিব। কৃষক বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করা, কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  কাল ঢাকায় ‘ফার্স্ট কনক্লেভ অন জুলাই রেভ্যুলেশন’

রাকিবের বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছিলেন। আশা ছিল লেখাপড়া শেষ করে একদিন সংসারের দায়িত্ব নেবে। কিন্তু ঘরে ফিরেছে শুধু তার নিথর দেহ। তিনি আরও জানান, আন্দোলনের সময় বড় ছেলের চাকরিও চলে গেছে। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা জানান, উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত শহীদ পরিবারগুলোর খোঁজখবর রাখছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে তাদের সম্মান জানানো হয়। পাশাপাশি রাস্তা নির্মাণ, টিউবওয়েল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকীতে রাকিবকে স্মরণ করে স্বজন ও সহপাঠীরা বলেন, স্বপ্নবাজ এই তরুণের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগাবে।