ঢাকা ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
হোদেইদায় হুথিদের ঘাঁটিতে সরকারি বাহিনীর ঝটিকা অভিযান, নিহত ১৪ বাবার লাশের পর এবার মাকে ঘরছাড়া, কেশবপুরে দুই ভাইকে ঘিরে নতুন অভিযোগ আইএমএফের কঠোর শর্তে আপত্তি, জনবান্ধব নীতিতে সরকারের নতুন অবস্থান চীনে পড়াশোনার চাপে কিশোরদের মধ্যে ওষুধের অপব্যবহার বাড়ছে ৫ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত মহানবীর আদর্শেই গড়ে উঠতে পারে শান্তি ও ন্যায়ের সমাজ: প্রধানমন্ত্রী মোহন ভাগবতের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি জানালেন জোহরান মামদানি সুদানে যুদ্ধের ময়দানই কি নির্ধারণ করছে পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ? মার্কিন সামরিক বিমান অবতরণের পরই মস্কোয় সিআইএ প্রধান, গোপন বৈঠক ঘিরে নানা জল্পনা ট্রাম্পের শুল্কের জবাব: মার্কিন পণ্যে কানাডার ৫০% পাল্টা শুল্ক
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

লোডশেডিংয়ে অক্সিজেন সংকট, শার্শায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছ মারা যাওয়ার দাবি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৫:৪৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ২১ সময় দেখুন

যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনামুখো বিলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সংকটে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছেন ঘের মালিকরা। তাদের দাবি, এতে আনুমানিক সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাত থেকে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলের সজনের ঘেরে মাছের মড়ক শুরু হয়। পরদিন সকালে বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পানির ওপর ভেসে ওঠে।

খামার মালিকদের অভিযোগ, দিনে-রাতে ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হওয়ায় ঘেরে আধুনিক পদ্ধতিতে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যায়।

সোনামুখো বিলের ঘেরটির মালিক এ এফ মৎস্য খামার। আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। মালিকদের হিসাবে, প্রায় ২০০ বিঘা আয়তনের ঘেরে ৬০ লাখ পিস পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গৌরব, আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাউফলের হাফেজ নূর

খামার মালিকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১৫টি পাবদা মাছে প্রায় এক কেজি হিসেবে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার মণ। বর্তমানে প্রতি মণ মাছের বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা হওয়ায় মোট মাছের মূল্য প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা বলে দাবি তাদের। মাছগুলো বাজারজাতের পাশাপাশি ভারতে রপ্তানির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল বলে জানান তারা।

খামার মালিক আলফাজুল হক বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। মাছের খাদ্য বাবদ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মালামাল বাকিতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  ভাদ্রের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, স্বস্তির খোঁজে ডাব-শরবতের দোকানে ভিড়

অন্য মালিক ফারুক হোসেন বলেন, রাত ১টার পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সকাল হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ পাবদা মাছ মারা যায়। তার দাবি, খামারের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০০ পরিবার নির্ভরশীল।

ঘের এলাকায় গিয়ে পানির ওপর অসংখ্য মৃত মাছ ভেসে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও পরিশ্রম অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খামার মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ঘেরে উৎপাদিত পাবদা মাছের একটি অংশ রপ্তানি চেইনের মাধ্যমে ভারতে যায়। ফলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি এ ধরনের মাছ রপ্তানির মাধ্যমেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুনঃ  সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, অব্যাহত থাকতে পারে আরও পাঁচ দিন

ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিদের অভিযোগ, মাছের মড়ক শুরু হওয়ার পর শার্শা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর বা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে খোঁজ নেননি। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় মাছচাষিরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে আধুনিক অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য বড় ঘেরও একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

তাদের দাবি, এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত নিরূপণ করে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

হোদেইদায় হুথিদের ঘাঁটিতে সরকারি বাহিনীর ঝটিকা অভিযান, নিহত ১৪

লোডশেডিংয়ে অক্সিজেন সংকট, শার্শায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছ মারা যাওয়ার দাবি

আপডেটের সময়: ০৫:৪৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনামুখো বিলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সংকটে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছেন ঘের মালিকরা। তাদের দাবি, এতে আনুমানিক সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাত থেকে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলের সজনের ঘেরে মাছের মড়ক শুরু হয়। পরদিন সকালে বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পানির ওপর ভেসে ওঠে।

খামার মালিকদের অভিযোগ, দিনে-রাতে ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হওয়ায় ঘেরে আধুনিক পদ্ধতিতে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যায়।

সোনামুখো বিলের ঘেরটির মালিক এ এফ মৎস্য খামার। আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। মালিকদের হিসাবে, প্রায় ২০০ বিঘা আয়তনের ঘেরে ৬০ লাখ পিস পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গৌরব, আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাউফলের হাফেজ নূর

খামার মালিকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১৫টি পাবদা মাছে প্রায় এক কেজি হিসেবে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার মণ। বর্তমানে প্রতি মণ মাছের বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা হওয়ায় মোট মাছের মূল্য প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা বলে দাবি তাদের। মাছগুলো বাজারজাতের পাশাপাশি ভারতে রপ্তানির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল বলে জানান তারা।

খামার মালিক আলফাজুল হক বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। মাছের খাদ্য বাবদ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মালামাল বাকিতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  ওড়িশা উপকূলে জাহাজডুবি, বাংলাদেশিসহ ২২ নাবিক নিখোঁজ

অন্য মালিক ফারুক হোসেন বলেন, রাত ১টার পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সকাল হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ পাবদা মাছ মারা যায়। তার দাবি, খামারের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০০ পরিবার নির্ভরশীল।

ঘের এলাকায় গিয়ে পানির ওপর অসংখ্য মৃত মাছ ভেসে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও পরিশ্রম অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খামার মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ঘেরে উৎপাদিত পাবদা মাছের একটি অংশ রপ্তানি চেইনের মাধ্যমে ভারতে যায়। ফলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি এ ধরনের মাছ রপ্তানির মাধ্যমেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুনঃ  ভাদ্রের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, স্বস্তির খোঁজে ডাব-শরবতের দোকানে ভিড়

ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিদের অভিযোগ, মাছের মড়ক শুরু হওয়ার পর শার্শা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর বা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে খোঁজ নেননি। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় মাছচাষিরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে আধুনিক অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য বড় ঘেরও একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

তাদের দাবি, এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত নিরূপণ করে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।