শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধানকাটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এতিমখানা সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্তমানে ব্রিজটির ঢালাই ভেঙে রড বেরিয়ে যাওয়ায় এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন স্থানীয়দের এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজটির বিভিন্ন অংশের ঢালাই ভেঙে রড বেরিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের ওপর কাঠ বিছিয়ে কোনোভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পশ্চিম দিকে হেলে পড়া ব্রিজটির ওপর দিয়ে অটো, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে ব্রিজটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এর আগে কয়েক দফা জোড়াতালি দিয়ে মেরামতের চেষ্টা করা হলেও বর্তমানে সেটি আর কার্যকর নয়। যেকোনো সময় ব্রিজটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ব্রিজটির দক্ষিণ পাশে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। উত্তর পাশে রয়েছে একটি মাদ্রাসা, একটি এতিমখানা ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করেন। স্থানীয়দের কাছে এটি শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।
নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও ম্যারেজ রেজিস্ট্রার মাওলানা হাফিজ উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে হয়। ব্রিজে উঠলেই আতঙ্ক লাগে—কখন এটি ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে যায়, সেই ভয় থাকে।
এ বিষয়ে ডামুড্যা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবু নাঈম নাবিল জানান, ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টেন্ডার সম্পন্ন হলেই ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদকের নাম 
























