অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের আরও সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এনসিপির নেতাকর্মী ও সমন্বয়কদের প্রভাব এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে নিয়মিত খবর প্রকাশিত হতো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এনসিপি বিরোধী দলে থাকায় তাদের নেতাকর্মীদের আগের মতো বিভিন্ন সুযোগ নেওয়ার সুযোগ নেই।
রাশেদ খাঁন লেখেন, সরকারি দল থেকে বিরোধী দলে যাওয়ার পর এনসিপির নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে আগের মতো অপকর্মের অভিযোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তিনি এটিকে ‘সুযোগের অভাবে সৎ’ মনে হওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন।
অন্যদিকে জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখতে পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ গণমাধ্যমে আসেনি, কিন্তু বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হওয়ার অভিযোগ সামনে আসছে।
পোস্টে রাশেদ খাঁন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসে এনসিপির নেতাকর্মী ও সমন্বয়কদের প্রভাব নিয়েও মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি শহীদ ওসমান হাদির উল্লেখ করা এনসিপি-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের কথাও তুলে ধরেন।
তবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলেন তিনি। তার মতে, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় কোনো দলের নেতাকর্মী বেপরোয়া হলে ক্ষমতায় গেলে আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কার সঙ্গে তিনি একমত নন।
রাশেদ খাঁন বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সবারই সহনশীল হওয়া প্রয়োজন। দেশের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি দলের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নের মতো বিরোধী দলেরও ছয় মাসের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করা হলে দেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার হতে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 



















