সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, এরপর প্রেম ও বিয়ে। কিন্তু বিয়ের পর ভারতে এসে থাই এক নারী জানতে পারেন, তাঁর স্বামী আগে থেকেই বিবাহিত এবং তিন সন্তানের বাবা। উত্তরপ্রদেশের কানপুরের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ম পরিবর্তনে চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ওই নারী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগকারী নারীর নাম আপসর্ন। থাইল্যান্ডে তিনি একটি রেস্তোরাঁ ও ক্যান্টিন পরিচালনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানপুরের চামড়া ব্যবসায়ী ইরফানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
আপসর্নের দাবি, ইরফান নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে প্রায় দুই বছর আগে থাইল্যান্ডে গিয়ে তাঁকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ব্যবসা ও বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজনের কথা বলে ইরফান তাঁর কাছ থেকে টাকা নিতে থাকেন। একপর্যায়ে নিজের ব্যবসার আয় ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করা অর্থ মিলিয়ে স্বামীকে প্রায় ৬০ লাখ রুপি দেন বলে দাবি করেন আপসর্ন।
অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পর ইরফান যোগাযোগ বন্ধ করে ভারতে ফিরে আসেন। কয়েক মাস কোনো যোগাযোগ না পেয়ে আপসর্ন গত ৬ অক্টোবর কানপুরে স্বামীর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ইরফানের ১২ বছরের একটি দাম্পত্য সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর তিন সন্তানও আছে।
আপসর্নের দাবি, টাকা ফেরত চাইলে ইরফান তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থাকতে বা টাকা ফেরত পেতে হলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও বোরকা পরার শর্ত দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন আপসর্ন। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পূর্ব) শিবা সিংয়ের কাছে তিনি পুরো ঘটনা তুলে ধরেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়েছে এবং ইরফানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে বিয়ের নথিপত্র, প্রায় ৬০ লাখ রুপি লেনদেন এবং ধর্ম পরিবর্তনে চাপ দেওয়ার অভিযোগসহ পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
প্রতিবেদকের নাম 
























