ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ঘোষণা তিন দিনের সফরে সৌদি আরব গেলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী অস্ত্র-সংকটের তথ্য জানতেন না ট্রাম্প, হেগসেথের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় বোনের বিয়ের বাজার শেষে নিথর দেহে ফিরলেন ভাই দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব হাসপাতালে সার্কুলারের নির্দেশ হাইকোর্টের আলভারেজকে পেতে ১১৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতে প্রস্তুত বার্সেলোনা! চাঁদপুরে মামলা পরিচালনাকালে আইনজীবীর মৃত্যু হামলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের, ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হলো কল রেকর্ড অনুশ্রীর স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী, উপহার দিলেন হারমোনিয়াম বাদ দিতে হলো ইমরান হাশমির নতুন সিনেমার ৪ মিনিটের দৃশ্য
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com
তথ্য যাচাইয়ে থাকবে তিন স্তরের তদারকি, নারী সদস্যদের হাতে পৌঁছাবে সহায়তার অর্থ

১৬ আগস্ট চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, চার বছরে সুবিধার আওতায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ সময় দেখুন

 

 

 

পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের পর আগামী ১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে সরকারের বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। প্রথম ধাপে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি একটি ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সুবিধাভোগীদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে, যাতে প্রকৃত দরিদ্র কেউ বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারেন।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রীর সিল-স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণা, সংঘবদ্ধ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

তিনি জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। ভাতা ও সহায়তা বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে নিয়মিত তথ্য সংশোধন ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখা হবে।

জাহিদ হোসেন বলেন, মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। কেউ দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত হতে পারেন, আবার কেউ মধ্যবিত্ত থেকেও দরিদ্র অবস্থায় যেতে পারেন। তাই স্থায়ী তালিকার পরিবর্তে পরিবর্তনশীল তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ঘোষণা

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ১৬ আগস্ট উদ্বোধনের পর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হবে। একসঙ্গে সারাদেশে বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে ধাপে ধাপে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, চার বছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। তবে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এই অর্থ শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, বৃক্ষরোপণ, কুটিরশিল্প, সেলাই কাজ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে সরকার।

পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশের ৫৬টি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে সমস্যা দেখা দিলেও তা সংশোধন করা হয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’-এর আত্মপ্রকাশ, ঘোষণা ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি

তিনি বলেন, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করবেন। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে তদারকি কমিটি কাজ করবে। জাতীয় পর্যায়েও থাকবে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি যেন একাধিক ভাতা বা সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ঘোষণা

তথ্য যাচাইয়ে থাকবে তিন স্তরের তদারকি, নারী সদস্যদের হাতে পৌঁছাবে সহায়তার অর্থ

১৬ আগস্ট চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, চার বছরে সুবিধার আওতায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

আপডেটের সময়: ০৪:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

 

 

 

পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের পর আগামী ১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে সরকারের বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। প্রথম ধাপে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি একটি ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সুবিধাভোগীদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে, যাতে প্রকৃত দরিদ্র কেউ বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারেন।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি, শহিদ পরিবারকে সম্মাননা

তিনি জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। ভাতা ও সহায়তা বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে নিয়মিত তথ্য সংশোধন ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখা হবে।

জাহিদ হোসেন বলেন, মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। কেউ দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত হতে পারেন, আবার কেউ মধ্যবিত্ত থেকেও দরিদ্র অবস্থায় যেতে পারেন। তাই স্থায়ী তালিকার পরিবর্তে পরিবর্তনশীল তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ১৬ আগস্ট শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, চার বছরে সুবিধা পাবেন ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ১৬ আগস্ট উদ্বোধনের পর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হবে। একসঙ্গে সারাদেশে বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে ধাপে ধাপে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, চার বছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। তবে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এই অর্থ শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, বৃক্ষরোপণ, কুটিরশিল্প, সেলাই কাজ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে সরকার।

পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশের ৫৬টি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে সমস্যা দেখা দিলেও তা সংশোধন করা হয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  গণতন্ত্র টিকলে এগোবে বাংলাদেশ, স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি হলে দেশ পিছিয়ে পড়বে: ডিএসসিসি প্রশাসক

তিনি বলেন, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করবেন। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে তদারকি কমিটি কাজ করবে। জাতীয় পর্যায়েও থাকবে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি যেন একাধিক ভাতা বা সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করবে।