গাইবান্ধায় শাশুড়ি মাহমুদা বেগমকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে জামাই বিরাজ আলীকে (৫০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মোল্যা সাইফুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বিরাজ আলী গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বোগদহ পুলপাড়া গ্রামের ফইম উদ্দিনের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে বিরাজ আলীর সঙ্গে একই উপজেলার চক শিবপুর গ্রামের দুদু মিয়া ও মাহমুদা বেগমের মেয়ে দুলালী বেগমের বিয়ে হয়। মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনের কারণে ২০০৭ সালে দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান দুলালী। সংসারের প্রয়োজনে তার মা মাহমুদা বেগম স্থানীয় এক গৃহস্থের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। দুলালীও জীবিকার জন্য একটি বাড়িতে কাজ নেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, স্ত্রীকে আবার নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বিরাজ আলী। তবে দুলালী এতে রাজি হননি। ২০০৭ সালের ১৪ মে রাতে কাজ শেষে মা ও মেয়ে একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে চক শিবপুর গ্রামের আলেক উদ্দিনের বাড়ির কাছে আগে থেকে ওত পেতে থাকা বিরাজ আলীসহ আরও দুই থেকে তিনজন তাদের পথরোধ করেন এবং দুলালীকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় মাহমুদা বেগম বাধা দিলে বিরাজ আলী ক্ষিপ্ত হয়ে তার বুকে ও পাঁজরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত মাহমুদা বেগমকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তিনি মারা যান।
পরদিন ১৫ মে নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম গোবিন্দগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট বিরাজ আলীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
প্রতিবেদকের নাম 




















