ঢাকা ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

৪ হাজার ৫৯২ জনবল নিয়ে হচ্ছে সাইবার পুলিশ ইউনিট, থাকবে ক্রিপ্টো ও ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:০৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও ডিজিটালি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ৪ হাজার ৫৯২ জনবল নিয়ে একটি বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরে সাইবার পুলিশ ইউনিটের ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নতুন ইউনিটে সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট ও ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার সুযোগ থাকবে।

থাকছে ৪ হাজার ৫৯২ জনবল

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইউনিটটির অর্গানোগ্রামে মোট ৪ হাজার ৫৯২ জনবলের পদ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যমান পুলিশ সদস্যদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় জনবল দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে। পরে নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জনবল গঠন করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম্প প্রশাসনে পরিবর্তনের আহ্বান আইআরজিসির

ইউনিটের প্রধান হিসেবে একজন অতিরিক্ত আইজিপি দায়িত্ব পালন করবেন। বিভাগ ও সদর দপ্তর পর্যায়ে একাধিক ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি তদারকির দায়িত্বে থাকবেন। জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা নেতৃত্ব দেবেন। মাঠপর্যায়ে সেবা দিতে থানাগুলোতে আলাদা সাব-ইন্সপেক্টর, এএসআই ও কনস্টেবল রাখার ব্যবস্থা থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার সুযোগ

নতুন ইউনিটে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালট্যান্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্ট, কনটেন্ট ডেভেলপার, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, কমিউনিকেশন এক্সপার্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্ট।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব বিশেষজ্ঞকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে এবং তাদের বেতন-ভাতার কাঠামো নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের তুলনায় আলাদা হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  রিমান্ডে নেওয়ার সময় পুলিশ কর্মকর্তাকে ধমকালেন আখতারুজ্জামান

পুলিশের মধ্যে যারা সাইবার বিষয়ে দক্ষ বা এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী, তাদেরও ইউনিটে যুক্ত করা হবে। উপযুক্ত কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে গুরুত্ব

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবারসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধ মোকাবিলায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।

মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, মানি লন্ডারিং, আর্থিক অপরাধ, সামাজিক নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফরেনসিক ও ডিজিটাল ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আগে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিভিন্ন পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করা হতো জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন ইউনিটের মাধ্যমে এসব কার্যক্রমকে একটি সংগঠিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুনঃ  টালিউডে পা রাখার আগেই কেন নাম বদলেছিলেন ইধিকা পাল

তিনি নতুন ইউনিটকে আধুনিক সরঞ্জাম, ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল প্রযুক্তিসমৃদ্ধ একটি বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

সাইবার আইন সংশোধনের উদ্যোগ

সাইবার সিকিউরিটি আইন আরও আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইন সংশোধনের বিষয়ে সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিকবার মতবিনিময় করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের মতামত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নতুন আইনে সাইবারসংশ্লিষ্ট অপরাধগুলো আরও সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে নিরপরাধ বা সংশ্লিষ্ট নন এমন ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে সুরক্ষার বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনটি সংবেদনশীল হওয়ায় সংশোধনের ক্ষেত্রে সময় নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত বিল আনা হবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জাহিদ হাসানকে ‘বাবা’ ডেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা সুনেরাহর

৪ হাজার ৫৯২ জনবল নিয়ে হচ্ছে সাইবার পুলিশ ইউনিট, থাকবে ক্রিপ্টো ও ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট

আপডেটের সময়: ০৮:০৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও ডিজিটালি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ৪ হাজার ৫৯২ জনবল নিয়ে একটি বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরে সাইবার পুলিশ ইউনিটের ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নতুন ইউনিটে সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট ও ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার সুযোগ থাকবে।

থাকছে ৪ হাজার ৫৯২ জনবল

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইউনিটটির অর্গানোগ্রামে মোট ৪ হাজার ৫৯২ জনবলের পদ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যমান পুলিশ সদস্যদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় জনবল দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে। পরে নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জনবল গঠন করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপের সময়সীমা বাড়িয়ে পাঁচ বছর

ইউনিটের প্রধান হিসেবে একজন অতিরিক্ত আইজিপি দায়িত্ব পালন করবেন। বিভাগ ও সদর দপ্তর পর্যায়ে একাধিক ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি তদারকির দায়িত্বে থাকবেন। জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা নেতৃত্ব দেবেন। মাঠপর্যায়ে সেবা দিতে থানাগুলোতে আলাদা সাব-ইন্সপেক্টর, এএসআই ও কনস্টেবল রাখার ব্যবস্থা থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার সুযোগ

নতুন ইউনিটে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালট্যান্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্ট, কনটেন্ট ডেভেলপার, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, কমিউনিকেশন এক্সপার্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্ট।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব বিশেষজ্ঞকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে এবং তাদের বেতন-ভাতার কাঠামো নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের তুলনায় আলাদা হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  টালিউডে পা রাখার আগেই কেন নাম বদলেছিলেন ইধিকা পাল

পুলিশের মধ্যে যারা সাইবার বিষয়ে দক্ষ বা এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী, তাদেরও ইউনিটে যুক্ত করা হবে। উপযুক্ত কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে গুরুত্ব

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবারসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধ মোকাবিলায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।

মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, মানি লন্ডারিং, আর্থিক অপরাধ, সামাজিক নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফরেনসিক ও ডিজিটাল ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আগে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিভিন্ন পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করা হতো জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন ইউনিটের মাধ্যমে এসব কার্যক্রমকে একটি সংগঠিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুনঃ  গেইলের ১৭৫ পেরিয়ে ইতিহাস প্রিটোরিয়াসের, ২০ বছরেই টি-টোয়েন্টির নতুন রেকর্ড

তিনি নতুন ইউনিটকে আধুনিক সরঞ্জাম, ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল প্রযুক্তিসমৃদ্ধ একটি বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

সাইবার আইন সংশোধনের উদ্যোগ

সাইবার সিকিউরিটি আইন আরও আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইন সংশোধনের বিষয়ে সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিকবার মতবিনিময় করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের মতামত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নতুন আইনে সাইবারসংশ্লিষ্ট অপরাধগুলো আরও সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে নিরপরাধ বা সংশ্লিষ্ট নন এমন ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে সুরক্ষার বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনটি সংবেদনশীল হওয়ায় সংশোধনের ক্ষেত্রে সময় নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত বিল আনা হবে।