ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরান। মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক মিত্র জর্ডানের দিকে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে ইরান। এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পাঁচ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গত দুই দিনে ইরান একটি মার্কিন নৌযানে দুবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালায়। দুটি হামলার চেষ্টাই এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি।
এর পরই ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, চারটি জাহাজে ওমান উপসাগরে এবং অপর একটি জাহাজে পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপের কাছে হামলা চালানো হয়।
হামলার আগে জাহাজগুলোর ক্রুদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। সেন্টকম জানিয়েছে, এসব ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা বা নৌসদস্য আহত হননি। মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি এখনো আঞ্চলিক জলসীমায় টহল দিচ্ছে।
জর্ডানের বিমানঘাঁটি লক্ষ্য ছিল: ইরান
মার্কিন হামলার পর জর্ডানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি। গুরুত্বপূর্ণ এই সামরিক ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীও ব্যবহার করে।
তবে জর্ডানের সেনাবাহিনীর দাবি, ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে। অন্য দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে।
কুয়েত-বাহরাইনের তেলবাহী জাহাজেও হুমকি
জর্ডানে হামলার পরও হুঁশিয়ারি থামায়নি ইরান। বাহরাইন ও কুয়েতের বন্দরসংলগ্ন এলাকায় থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে দেশটি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বরাতে জানিয়েছে, কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোর ক্রুদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি এসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ইরানের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
খার্গ দ্বীপের কাছে তেলবাহী জাহাজে হামলা
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, মঙ্গলবার মার্কিন হামলার শিকার হওয়া একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ খার্গ দ্বীপ থেকে মাত্র চার মাইল দূরে ছিল। ইরানের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এই দ্বীপ।
আইআরআইবি জানিয়েছে, ওমান উপসাগরের কাছে জাস্ক উপকূলের কাছেও আরেকটি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে। দুটি জাহাজের ক্রুদের লাইফবোটে করে নিরাপদে তীরে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
ইরানের প্রতি রুবিওর কড়া হুঁশিয়ারি
ইরানের হামলার জবাবে আরও কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। কলম্বিয়া সফরকালে ব্যারানকিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান যতবার মার্কিন নৌযানে হামলা চালাবে বা হামলার চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের তেলবাহী জাহাজ হারাতে হবে।
রুবিও বলেন, ‘ইরান এখনো মার্কিন নৌযানে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যতবার এমন করবে বা করার চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের তেলবাহী জাহাজ হারাতে হবে।’
এর আগে সপ্তাহান্তে ইরানের আরও তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই সময় ইরানের আইআরজিসি একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারে হামলার চেষ্টা করেছিল।
ইরানের বিমান খাতেও নতুন নিষেধাজ্ঞা
সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার ইরানের বিমান খাতে নতুন করে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে ইরানের ২৭টি বিমান সংস্থা এবং নয়টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও বিক্রয় এজেন্ট। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ারকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মাহান এয়ার ২০১১ সাল থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি আইআরজিসিকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়ে আসছে।
ফলে সামরিক হামলা, নৌ অবরোধ ও তেলবাহী জাহাজে হামলার পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতি ও পরিবহন খাতেও চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। পাল্টা জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজে হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















