
পোশাকশিল্পে ভাঙচুর, সহিংসতা ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত থেকে বিদেশি ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার। তাঁর দাবি, ক্রেতারা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন পোশাকশ্রমিকরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে শ্রম ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার।
তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিভিন্ন স্থানে বহিরাগত এবং বিভিন্নভাবে বঞ্চিত ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিরা জড়ো হয়ে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। কোথাও কারখানা বন্ধ থাকা কিংবা বেতন না পাওয়ার অজুহাতে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি আদায়ের আহ্বান জানিয়ে নাজমা আক্তার বলেন, নিজেদের জীবিকা ও কর্মক্ষেত্র রক্ষার স্বার্থেই শ্রমিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অযথা সংঘাতে না জড়িয়ে ন্যায্য দাবিগুলো লিখিতভাবে অথবা নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে হবে।
পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতার অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, কারখানায় ভাঙচুর ও উৎপাদন বন্ধের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশে চলে গেলে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন এ শিল্পের শ্রমিকরাই। তাদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
মালিকপক্ষের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়েও বক্তব্য দেন এই শ্রমিক নেতা। তিনি বলেন, পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকেরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক পক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা আনোয়ার হোসাইন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি ও শ্রমিক নেতা বাবুল আখতার, নাজমা আক্তার, মোছা. সুলতানা বেগম, লাভলী ইয়াসমিন, খালিকুজ্জামান লিপু, সোহেল রানাসহ অন্য শ্রমিক নেতারা।
প্রতিবেদকের নাম 























