বাংলাদেশের জনগণ কখনো স্বৈরাচারী শাসন মেনে নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ বরাবরই গণতন্ত্রকামী এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন সময়ে আত্মত্যাগ করেছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী ও তরুণ সদস্যদের সঙ্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রতিনিধিদলের এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় আইপিইউর সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে সংসদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় আইপিইউ পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।
নারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, সামাজিক কুসংস্কার, নেতিবাচক সামাজিক রীতি ও অনলাইন বিদ্বেষের মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় আইপিইউ কার্যকর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশের নারী সংসদ সদস্যদের আইপিইউর নারী ফোরাম, জাতিসংঘবিষয়ক স্থায়ী কমিটি ও অন্যান্য কার্যক্রমে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের ভূমিকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আইপিইউর মহাসচিব বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পুনর্মিলন ও জাতীয় ঐক্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রাম এবং ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের পাশাপাশি নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অন্তত ৪০ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, যাদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, পূর্ববর্তী শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো সম্পর্কে আইপিইউর মহাসচিব ও তার প্রতিনিধিদলকে সংশ্লিষ্ট স্থান সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রতিনিধিদল জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার সংসদ সদস্য, তাদের পরিবার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবে।
স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের অধিকার, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগ করেছে। ইতিহাসে প্রমাণ রয়েছে, এ দেশের জনগণ কখনো স্বৈরাচারী শাসনকে মেনে নেয়নি বা সমর্থন করেনি।
সভায় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি গণতন্ত্র পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় সংসদ সদস্যদের মধ্যে জহরত আদিব চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, তাহসিনা রুশদী, আখতার হোসেন, সানসিলা জেবরিন, মানসুরা আক্তার, সানজিদা ইয়াসমিন, মাধবী মার্মা, মারদিয়া মমতাজ ও নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি বক্তব্য দেন। তারা আওয়ামী লীগ আমলে নির্যাতনের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















