ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঘন কুয়াশায় এফএ কাপের ম্যাচ, বলই দেখতে পাচ্ছিলেন না ধারাভাষ্যকাররা নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট আইসিডিডিআরবিতে চিকিৎসক নিয়োগ, মাসিক বেতন প্রায় ৯৬ হাজার টাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলপথ-সড়ক অবরোধ, বন্ধ দুই রুটের ট্রেন চলাচল ভ্যালেন্সিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বার্সার সমান পয়েন্টে রিয়াল মিরপুরে মেট্রো স্টেশনের নিচে বাসে আগুন, হতাহতের খবর নেই গভীর রাতে শেকৃবি ক্যাম্পাসে পরপর দুই ককটেল বিস্ফোরণ বিশেষ ভোটেই নির্ধারিত হবে নিউজিল্যান্ডের পরবর্তী সরকার তিন দিনের সফরে সোমবার ঢাকায় আসছেন ডাচেস অব এডিনবরা ওমান উপসাগরে জ্বলন্ত জাহাজ থেকে ২২ ক্রুকে উদ্ধার
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

গারো পাহাড়ে হাতি–আতঙ্ক: ফসল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের দাবি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:৩৯:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮৫ সময় দেখুন

দৈনিক বিশ্বসংবাদ ডেস্ক | ২৮ এপ্রিল ২০২৬,


শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী—গারো পাহাড়ঘেঁষা এই তিন উপজেলায় এখন চারদিকে সবুজ ধানের সমারোহ। বোরো ধানের এই মৌসুমে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে যে ফলন হয়েছে, তা শুধু কৃষকের পরিশ্রম নয়—এটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

তবে এই সাফল্যের মাঝেই প্রতিবছরের মতো এবারও দেখা দিয়েছে বন্য হাতির উপদ্রব, যা কৃষকের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।


হাতির উপদ্রব ও কৃষকের সংকট

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গারো পাহাড় এলাকায় শতাধিক বন্য হাতি কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে লোকালয়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ধান পাকতে শুরু করলেই এসব হাতি নেমে আসে মাঠে, ফলে কৃষকদের কাটাতে হয় নির্ঘুম রাত।

আরও পড়ুনঃ  রিয়াদে বড় বৈঠক, দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার অধ্যায়

মশাল জ্বালানো, পটকা ফাটানো কিংবা ঝুঁকিপূর্ণভাবে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা—এভাবেই চলছে কৃষকের জীবনযুদ্ধ। এতে একদিকে যেমন মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে, অন্যদিকে বন্য প্রাণীরও ক্ষতি হয়।


ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়

বন বিভাগ ও কৃষি দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখলেও কৃষকদের অভিযোগ, এই সহায়তা প্রকৃত ক্ষতির তুলনায় খুবই কম।

আরও পড়ুনঃ  ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়তি সতর্কতা, প্রশাসনের পাশাপাশি সক্রিয় থাকবে বিএনপি ও মিত্ররা

একজন কৃষকের মতে, “ফসলের পেছনের শ্রম, সময় আর মানসিক চাপের কোনো মূল্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে পূরণ করা যায় না।”

এছাড়া দীর্ঘসূত্রতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক কৃষক সময়মতো সহায়তা পান না, ফলে তারা ক্রমশ কৃষিকাজে আগ্রহ হারাচ্ছেন।


সমাধান কতটা কার্যকর?

বন বিভাগ কিছু এলাকায় সোলার ফেন্সিং ও বায়ো-ফেন্সিং চালু করলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতির খাদ্য সংকট ও বনাঞ্চল সংকোচনই মূল সমস্যা।

বন উজাড় এবং হাতির চলাচলের করিডর দখল হয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

আরও পড়ুনঃ  ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার নির্দেশনা

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি

সম্পাদকীয় মতামতে বলা হয়েছে, শুধু মৌসুমভিত্তিক টিম গঠন করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন—

  • হাতির করিডর পুনরুদ্ধার
  • বনাঞ্চলে খাদ্যসংস্থান বৃদ্ধি
  • আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সুরক্ষা ব্যবস্থা
  • কৃষক ও বন্য প্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করার পরিকল্পনা

গারো পাহাড়ের কৃষি উৎপাদন দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও বন্য হাতির সঙ্গে চলমান সংঘাত সেই অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলছে। কৃষক, পরিবেশ ও বন্য প্রাণী—সব পক্ষকে বিবেচনায় নিয়ে এখনই একটি স্থায়ী ও সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ঘন কুয়াশায় এফএ কাপের ম্যাচ, বলই দেখতে পাচ্ছিলেন না ধারাভাষ্যকাররা

গারো পাহাড়ে হাতি–আতঙ্ক: ফসল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের দাবি

আপডেটের সময়: ১১:৩৯:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

দৈনিক বিশ্বসংবাদ ডেস্ক | ২৮ এপ্রিল ২০২৬,


শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী—গারো পাহাড়ঘেঁষা এই তিন উপজেলায় এখন চারদিকে সবুজ ধানের সমারোহ। বোরো ধানের এই মৌসুমে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে যে ফলন হয়েছে, তা শুধু কৃষকের পরিশ্রম নয়—এটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

তবে এই সাফল্যের মাঝেই প্রতিবছরের মতো এবারও দেখা দিয়েছে বন্য হাতির উপদ্রব, যা কৃষকের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।


হাতির উপদ্রব ও কৃষকের সংকট

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গারো পাহাড় এলাকায় শতাধিক বন্য হাতি কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে লোকালয়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ধান পাকতে শুরু করলেই এসব হাতি নেমে আসে মাঠে, ফলে কৃষকদের কাটাতে হয় নির্ঘুম রাত।

আরও পড়ুনঃ  গভীর রাতে শেকৃবি ক্যাম্পাসে পরপর দুই ককটেল বিস্ফোরণ

মশাল জ্বালানো, পটকা ফাটানো কিংবা ঝুঁকিপূর্ণভাবে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা—এভাবেই চলছে কৃষকের জীবনযুদ্ধ। এতে একদিকে যেমন মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে, অন্যদিকে বন্য প্রাণীরও ক্ষতি হয়।


ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়

বন বিভাগ ও কৃষি দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখলেও কৃষকদের অভিযোগ, এই সহায়তা প্রকৃত ক্ষতির তুলনায় খুবই কম।

আরও পড়ুনঃ  মোংলা বন্দরে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

একজন কৃষকের মতে, “ফসলের পেছনের শ্রম, সময় আর মানসিক চাপের কোনো মূল্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে পূরণ করা যায় না।”

এছাড়া দীর্ঘসূত্রতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক কৃষক সময়মতো সহায়তা পান না, ফলে তারা ক্রমশ কৃষিকাজে আগ্রহ হারাচ্ছেন।


সমাধান কতটা কার্যকর?

বন বিভাগ কিছু এলাকায় সোলার ফেন্সিং ও বায়ো-ফেন্সিং চালু করলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতির খাদ্য সংকট ও বনাঞ্চল সংকোচনই মূল সমস্যা।

বন উজাড় এবং হাতির চলাচলের করিডর দখল হয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

আরও পড়ুনঃ  রিয়াদে বড় বৈঠক, দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার অধ্যায়

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি

সম্পাদকীয় মতামতে বলা হয়েছে, শুধু মৌসুমভিত্তিক টিম গঠন করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন—

  • হাতির করিডর পুনরুদ্ধার
  • বনাঞ্চলে খাদ্যসংস্থান বৃদ্ধি
  • আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সুরক্ষা ব্যবস্থা
  • কৃষক ও বন্য প্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করার পরিকল্পনা

গারো পাহাড়ের কৃষি উৎপাদন দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও বন্য হাতির সঙ্গে চলমান সংঘাত সেই অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলছে। কৃষক, পরিবেশ ও বন্য প্রাণী—সব পক্ষকে বিবেচনায় নিয়ে এখনই একটি স্থায়ী ও সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন।