ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
আদালতে আবেগঘন মন্তব্য লতিফ সিদ্দিকীর, ‘ফাঁসি দিয়ে দিন, আমি প্রস্তুত’ গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, ইটপাটকেলে ভাঙচুর রপ্তানি বহুমুখীকরণে বড় সাফল্য, ইসিফরজে প্রকল্পে সৃষ্টি ১ লাখ ৮০ হাজার কর্মসংস্থান ইনানীতে পাঁচতারকা হোটেল কর্মচারীর রহস্যজনক মৃত্যু, মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার পাকিস্তানে পুলিশ চেকপোস্টে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৭ পুলিশ; পাল্টা অভিযানে নিহত ৮ হামলাকারী পাবনায় সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে স্কুলশিক্ষিকাকে হত্যা, মরদেহ উদ্ধার টয়লেটের ট্যাংকি থেকে আলিম পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলা: কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ অফিসার সাময়িক বরখাস্ত নবম পে স্কেল নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী, দ্রুত আসছে প্রজ্ঞাপন অবসরের পর মেসিকে নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনার জেরে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফিফার অভিযোগ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

গিবত বনাম সত্য কথা— পার্থক্য কোথায়?

 

ইসলামে প্রতিটি কথার জন্য মানুষ জবাবদিহি করবে। তাই সত্য কথা বলা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই সত্য কী উদ্দেশ্যে, কীভাবে এবং কোথায় বলা হচ্ছে— সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 গিবত কী?

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে শুনলে অপছন্দ করবে।”

সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, “যদি কথাটি সত্য হয়?”
তিনি উত্তরে বললেন,

“যদি তা সত্য হয়, তবে তুমি তার গিবত করলে। আর যদি সত্য না হয়, তবে তুমি তার ওপর অপবাদ দিলে।”
(সহিহ মুসলিম: ২৫৮৯)

অর্থাৎ, সত্য হলেও কারও অনুপস্থিতিতে তার এমন দোষ আলোচনা করা, যা সে শুনলে কষ্ট পাবে— সেটিই গিবত।

আরও পড়ুনঃ  গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ৫ দিনের বৃষ্টির সতর্কতা, ভারী বর্ষণের আশঙ্কা

কোরআনের সতর্কবার্তা

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“তোমরা একে অপরের গিবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে?”
(সূরা আল-হুজুরাত: ১২)

গিবতের ভয়াবহতা বোঝাতে কোরআনে এটিকে মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।


 কখন সত্য কথা বলা বৈধ?

ইসলামে কিছু ক্ষেত্রে সত্য কথা বলা গিবত নয়। যেমন—

  • অত্যাচারের বিচার চাওয়া
  • মানুষকে প্রতারণা বা ক্ষতি থেকে সতর্ক করা
  • দ্বীনি ভুল বা বিভ্রান্তি সংশোধন করা
  • পরিচয়ের প্রয়োজনে কোনো বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা, যখন অন্যভাবে চেনানো সম্ভব নয়।

এ ক্ষেত্রেও উদ্দেশ্য হতে হবে সংশোধন ও কল্যাণ, অপমান বা হেয় করা নয়।

আরও পড়ুনঃ  মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

 কখন সত্য কথা গিবতে পরিণত হয়?

নিচের যেকোনো উদ্দেশ্যে সত্য কথা বললে তা গিবত হতে পারে—

  • অপ্রয়োজনীয়ভাবে কারও দোষ আলোচনা করা।
  • কাউকে ছোট করা বা অপমান করা।
  • বিদ্বেষ বা হিংসা থেকে সমালোচনা করা।
  • প্রকাশ্যে সম্মানহানি ঘটানো।
  • কারও গোপন বিষয় ছড়িয়ে দেওয়া।

📱 আধুনিক যুগের গিবত

আজ গিবত শুধু মুখের কথায় সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে রয়েছে—

  • স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়া
  • ব্যক্তিগত চ্যাট প্রকাশ করা
  • ব্যঙ্গাত্মক মিম বানানো
  • অডিও বা ভিডিও কেটে ভাইরাল করা
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ অপমানজনক পোস্ট করা

এসবও অনেক ক্ষেত্রে গিবতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।


 গিবত হয়ে গেলে করণীয়

  • আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করা।
  • বেশি বেশি ইস্তিগফার করা।
  • সম্ভব হলে যার গিবত করা হয়েছে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া।
  • তার জন্য দোয়া করা এবং তার সম্পর্কে ভালো কথা বলা।
আরও পড়ুনঃ  একরামুল হত্যা: হাসিনা-বেনজীরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

 রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চিরন্তন শিক্ষা

“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে, নতুবা নীরব থাকে।”
(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

মূল শিক্ষা:
সত্য কথা বলাই যথেষ্ট নয়; সেই সত্য যেন ন্যায়, প্রয়োজন ও উত্তম উদ্দেশ্যের জন্য বলা হয়। অন্যের সম্মানহানি, বিদ্বেষ বা অপমানের উদ্দেশ্যে বলা সত্যও ইসলামের দৃষ্টিতে গিবত হতে পারে। তাই একজন মুমিনের উচিত— কথা বলার আগে চিন্তা করা, প্রয়োজনে বলা, আর অপ্রয়োজনীয় হলে নীরব থাকা।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

আদালতে আবেগঘন মন্তব্য লতিফ সিদ্দিকীর, ‘ফাঁসি দিয়ে দিন, আমি প্রস্তুত’

গিবত বনাম সত্য কথা— পার্থক্য কোথায়?

আপডেটের সময়: ০৮:৩৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

 

ইসলামে প্রতিটি কথার জন্য মানুষ জবাবদিহি করবে। তাই সত্য কথা বলা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই সত্য কী উদ্দেশ্যে, কীভাবে এবং কোথায় বলা হচ্ছে— সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 গিবত কী?

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে শুনলে অপছন্দ করবে।”

সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, “যদি কথাটি সত্য হয়?”
তিনি উত্তরে বললেন,

“যদি তা সত্য হয়, তবে তুমি তার গিবত করলে। আর যদি সত্য না হয়, তবে তুমি তার ওপর অপবাদ দিলে।”
(সহিহ মুসলিম: ২৫৮৯)

অর্থাৎ, সত্য হলেও কারও অনুপস্থিতিতে তার এমন দোষ আলোচনা করা, যা সে শুনলে কষ্ট পাবে— সেটিই গিবত।

আরও পড়ুনঃ  ইরানে-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির যৌথ হামলা

কোরআনের সতর্কবার্তা

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“তোমরা একে অপরের গিবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে?”
(সূরা আল-হুজুরাত: ১২)

গিবতের ভয়াবহতা বোঝাতে কোরআনে এটিকে মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।


 কখন সত্য কথা বলা বৈধ?

ইসলামে কিছু ক্ষেত্রে সত্য কথা বলা গিবত নয়। যেমন—

  • অত্যাচারের বিচার চাওয়া
  • মানুষকে প্রতারণা বা ক্ষতি থেকে সতর্ক করা
  • দ্বীনি ভুল বা বিভ্রান্তি সংশোধন করা
  • পরিচয়ের প্রয়োজনে কোনো বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা, যখন অন্যভাবে চেনানো সম্ভব নয়।

এ ক্ষেত্রেও উদ্দেশ্য হতে হবে সংশোধন ও কল্যাণ, অপমান বা হেয় করা নয়।

আরও পড়ুনঃ  মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

 কখন সত্য কথা গিবতে পরিণত হয়?

নিচের যেকোনো উদ্দেশ্যে সত্য কথা বললে তা গিবত হতে পারে—

  • অপ্রয়োজনীয়ভাবে কারও দোষ আলোচনা করা।
  • কাউকে ছোট করা বা অপমান করা।
  • বিদ্বেষ বা হিংসা থেকে সমালোচনা করা।
  • প্রকাশ্যে সম্মানহানি ঘটানো।
  • কারও গোপন বিষয় ছড়িয়ে দেওয়া।

📱 আধুনিক যুগের গিবত

আজ গিবত শুধু মুখের কথায় সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে রয়েছে—

  • স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়া
  • ব্যক্তিগত চ্যাট প্রকাশ করা
  • ব্যঙ্গাত্মক মিম বানানো
  • অডিও বা ভিডিও কেটে ভাইরাল করা
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ অপমানজনক পোস্ট করা

এসবও অনেক ক্ষেত্রে গিবতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।


 গিবত হয়ে গেলে করণীয়

  • আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করা।
  • বেশি বেশি ইস্তিগফার করা।
  • সম্ভব হলে যার গিবত করা হয়েছে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া।
  • তার জন্য দোয়া করা এবং তার সম্পর্কে ভালো কথা বলা।
আরও পড়ুনঃ  ছুটিতে এসে শ্বশুরবাড়ির পুকুরে মিলল এসআই’র মরদেহ, আটক স্ত্রী ও শ্বশুর

 রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চিরন্তন শিক্ষা

“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে, নতুবা নীরব থাকে।”
(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

মূল শিক্ষা:
সত্য কথা বলাই যথেষ্ট নয়; সেই সত্য যেন ন্যায়, প্রয়োজন ও উত্তম উদ্দেশ্যের জন্য বলা হয়। অন্যের সম্মানহানি, বিদ্বেষ বা অপমানের উদ্দেশ্যে বলা সত্যও ইসলামের দৃষ্টিতে গিবত হতে পারে। তাই একজন মুমিনের উচিত— কথা বলার আগে চিন্তা করা, প্রয়োজনে বলা, আর অপ্রয়োজনীয় হলে নীরব থাকা।