শীতের আগেই নতুন আলু বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। আমন ধান কাটার পরপরই উঁচু জমিতে আলু রোপণ শুরু করেছেন তারা।
গত মৌসুমে আলুর দাম কম থাকায় অনেক কৃষক লোকসানে পড়েছিলেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার অনুকূল আবহাওয়া, তুলনামূলক কম বীজের দাম এবং সারের স্বাভাবিক সরবরাহকে কাজে লাগিয়ে আগেভাগেই আলু চাষে নেমেছেন তারা।
কৃষিনির্ভর নীলফামারীর উর্বর দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। তবে কিশোরগঞ্জ উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই আগাম আলু চাষের জন্য পরিচিত। শীতের আগেই বাজারে আলু তুলে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি করতে চান এখানকার কৃষকেরা।
কৃষকদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগাম আলু প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় সেভেন জাতের আলু রোপণের ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই তোলা সম্ভব। বাজারে নতুন আলুর চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় আগাম আলু চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাহাগিলী, নিতাই, পুটিমারী, গাড়াগ্রাম ও রণচণ্ডী ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ করছেন কৃষকেরা। কেউ ইতোমধ্যে রোপণ শেষ করেছেন, আবার কেউ জমি তৈরির কাজ করছেন। এতে মাঠে কৃষক ও শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে শ্রমিকের চাহিদা ও মজুরি।
বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক মিনারুল ইসলাম জানান, এবার তিনি ৭০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু চাষ করছেন। জমি ইজারা, হালচাষ, শ্রমিক ও কৃষি উপকরণসহ আলু তোলা পর্যন্ত তার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। বাজারদর ভালো থাকলে প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার আশা করছেন তিনি।
একই এলাকার কৃষক নাজমুল ইসলাম বলেন, গত বছর বিঘাপ্রতি আলু চাষে লোকসান হয়েছিল। এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম আলু চাষ করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
পুটিমারী ইউনিয়নের কৃষক মনছুর আলী জানান, প্রতি বছরই এ উপজেলায় আগাম আলু চাষ হয়। এবার তিনি দুই বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছেন। হিমাগার থেকে আনা আলু বীজ হিসেবে ব্যবহার করায় খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে। তবে বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে লাভের আশা করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম জানান, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা আগাম আলুর ভালো ফলন ও বাজারদর পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিবেদকের নাম 



















