ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

তাওবা মানুষকে পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়

  • arif
  • আপডেটের সময়: ১০:০৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৪ সময় দেখুন

ইবনু আবি মুলায়কাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, দুজন নারী একটি ঘর কিংবা একটি কক্ষে সেলাই করছিল। হাতের তালুতে সুই বিদ্ধ হয়ে তাদের একজন বেরিয়ে পড়ল এবং অপরজনের বিরুদ্ধে সুই ফুটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করল। বিষয়টি ইবনু আব্বাস (রা.)-এর কাছে পেশ করা হলে তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি শুধু দাবির ওপর ভিত্তি করে মানুষের দাবি পূরণ করা হয়, তাহলে তাদের জান ও মালের নিরাপত্তা থাকবে না। সুতরাং তোমরা বিবাদীদের আল্লাহর নামে শপথ করাও এবং এ আয়াত (আলে ইমরানের ৭৭ নম্বর আয়াত) তার সম্মুখে পাঠ করো।

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এরপর তারা তাকে শপথ করালো এবং সে নিজ দোষ স্বীকার করল। ইবনু আব্বাস (রা.) বললেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শপথ বিবাদীকে করতে হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৫৫২)

হাদিসে উদ্ধৃত আয়াতটি হলো—‘যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে চাইবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন না; তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৭৭)

হাদিসের শিক্ষা

উল্লিখিত হাদিসের আলোকে প্রাজ্ঞ আলেমরা কয়েকটি শিক্ষা ও বিধান বর্ণনা করেন। তাহলো—

আরও পড়ুনঃ  ইসলামী ব্যাংককে আরও ২৫০০ কোটি টাকা ধার

১. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের অধিকার রক্ষা করা আবশ্যক।

২. অভিযোগ অন্যায় প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়, বরং সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তা প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক।

৩. যথাযথভাবে অনুসন্ধান করার পর বিচারক রায় দেবেন। কেবল অভিযোগ শুনেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন না।

৪. বিচার ও সালিসের জন্য প্রাজ্ঞ লোকদের বেছে নেওয়া আবশ্যক। যেভাবে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বেছে নেওয়া হয়েছিল।

৫. হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, নারীদ্বয় পৃথক ঘরে কাজ করছিল। সুতরাং ইসলামী সমাজে নারীর কর্মক্ষেত্র পৃথক হবে।যেখানে নারী-পুরুষের মিশ্রণ নেই এবং পরিবেশ নিরাপদ সেখানে নারী কাজ করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ   আর্জেন্টিনার জয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন শোবিজ তারকারা

৬. শুধু পার্থিব শাস্তির ভয় নয়, বরং অভিযুক্ত ব্যক্তির ভেতর আল্লাহভীতি জাগিয়ে তোলাও প্রয়োজন।

৭. শরিয়তে শপথ দাবি প্রমাণের একটি মাধ্যম। শর্ত হলো শপথকারী মিথ্যাবাদী হবে না।

৮. আল্লাহর অবাধ্য হওয়া তার সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গের শামিল। কেননা রুহের জগতে সবাই আল্লাহর আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছিল।

৯. মিথ্যা শপথের প্রতিবিধান হলো তাওবা ও কাফফারা প্রদান করা।

১০. তাওবা মানুষকে পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়। গুনাহের পর তাওবা না করলে পরকালে শাস্তি ভোগ করতে হবে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

তাওবা মানুষকে পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়

আপডেটের সময়: ১০:০৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ইবনু আবি মুলায়কাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, দুজন নারী একটি ঘর কিংবা একটি কক্ষে সেলাই করছিল। হাতের তালুতে সুই বিদ্ধ হয়ে তাদের একজন বেরিয়ে পড়ল এবং অপরজনের বিরুদ্ধে সুই ফুটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করল। বিষয়টি ইবনু আব্বাস (রা.)-এর কাছে পেশ করা হলে তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি শুধু দাবির ওপর ভিত্তি করে মানুষের দাবি পূরণ করা হয়, তাহলে তাদের জান ও মালের নিরাপত্তা থাকবে না। সুতরাং তোমরা বিবাদীদের আল্লাহর নামে শপথ করাও এবং এ আয়াত (আলে ইমরানের ৭৭ নম্বর আয়াত) তার সম্মুখে পাঠ করো।

আরও পড়ুনঃ   হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্যোগ ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ভিআইপি পাস’ পরিকল্পনা

এরপর তারা তাকে শপথ করালো এবং সে নিজ দোষ স্বীকার করল। ইবনু আব্বাস (রা.) বললেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শপথ বিবাদীকে করতে হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৫৫২)

হাদিসে উদ্ধৃত আয়াতটি হলো—‘যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে চাইবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন না; তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৭৭)

হাদিসের শিক্ষা

উল্লিখিত হাদিসের আলোকে প্রাজ্ঞ আলেমরা কয়েকটি শিক্ষা ও বিধান বর্ণনা করেন। তাহলো—

আরও পড়ুনঃ  হত্যা মামলায় জামিন পেলেন আবুল বারকাত

১. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের অধিকার রক্ষা করা আবশ্যক।

২. অভিযোগ অন্যায় প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়, বরং সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তা প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক।

৩. যথাযথভাবে অনুসন্ধান করার পর বিচারক রায় দেবেন। কেবল অভিযোগ শুনেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন না।

৪. বিচার ও সালিসের জন্য প্রাজ্ঞ লোকদের বেছে নেওয়া আবশ্যক। যেভাবে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বেছে নেওয়া হয়েছিল।

৫. হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, নারীদ্বয় পৃথক ঘরে কাজ করছিল। সুতরাং ইসলামী সমাজে নারীর কর্মক্ষেত্র পৃথক হবে।যেখানে নারী-পুরুষের মিশ্রণ নেই এবং পরিবেশ নিরাপদ সেখানে নারী কাজ করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  স্ত্রী আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে

৬. শুধু পার্থিব শাস্তির ভয় নয়, বরং অভিযুক্ত ব্যক্তির ভেতর আল্লাহভীতি জাগিয়ে তোলাও প্রয়োজন।

৭. শরিয়তে শপথ দাবি প্রমাণের একটি মাধ্যম। শর্ত হলো শপথকারী মিথ্যাবাদী হবে না।

৮. আল্লাহর অবাধ্য হওয়া তার সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গের শামিল। কেননা রুহের জগতে সবাই আল্লাহর আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছিল।

৯. মিথ্যা শপথের প্রতিবিধান হলো তাওবা ও কাফফারা প্রদান করা।

১০. তাওবা মানুষকে পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়। গুনাহের পর তাওবা না করলে পরকালে শাস্তি ভোগ করতে হবে।