ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নুরুল আমীনের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি জানান, হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতের পাশাপাশি আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীরকে সংসদ অধিবেশনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৯ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। ওই দিনই তিনি শপথ নেন।
সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণ খেলাপের অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধে আপিল করেন জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীন। শুনানি শেষে ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে।
ইসি’র ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর। পরে ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এই আদেশের বিরুদ্ধে নুরুল আমীন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। ফলে সরোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও তাঁর নির্বাচনি ফলাফল আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর বিজয়ী হন। তবে আদালতের নির্দেশ থাকায় তাঁর বিজয়ের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
পরবর্তীতে নুরুল আমীনের করা আপিলের শুনানি শেষে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ আদেশ দেন। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া ওই আদেশে দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টে সংশ্লিষ্ট রুলের নিষ্পত্তি করতে বলা হয়।
এরপর শুনানি শেষে গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন। এবার সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলেন জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।
লিভ টু আপিলের পরবর্তী শুনানিতে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর অবস্থান নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















