দেশের বিদ্যুৎ খাত একসঙ্গে বকেয়া বিল, গ্যাস-কয়লার ঘাটতি, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ও দুর্বল সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটে পড়েছে। উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও জ্বালানির অভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে গ্রামাঞ্চলে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় গ্যাস, কয়লা ও এলএনজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। পাশাপাশি পিডিবির কাছে বেসরকারি ও বিদেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপুল পাওনা জমে থাকায় জ্বালানি সংগ্রহ ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায়ও চাপ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গত ৯ আগস্ট রাতে লোডশেডিং ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। রাজধানীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামাঞ্চলের অনেক এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে শিল্প ও কৃষিতেও। কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাকআপ জেনারেটর চালাতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে সেচ পাম্প চালানো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কৃষি উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদে এলএনজি ও কয়লার সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, জ্বালানি মজুতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খাতে অপচয় ও অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















