সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ার পরও নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে ইরান। নতুন স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর দেশজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় মেরামত ও পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু করেছে তেহরান। বিশেষ করে পারচিন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় সৃষ্ট বড় বড় গর্ত ভরাট ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে পারচিনের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ এলাকায় সামরিক যানবাহন ও ট্রাকের নিয়মিত চলাচলও নজরে এসেছে।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, পারচিনে দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্রের উপযোগী বিস্ফোরক নিয়ে গবেষণা চলছিল। ফলে সেখানে নতুন করে কাজ শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে ইরান সব পারমাণবিক স্থাপনায় একযোগে কাজ শুরু করেনি। ইসফাহান, ফোরদো এবং নাতানজের মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত নতুন মেরামতের দৃশ্যমান কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো পুনরুদ্ধারেও জোর দিয়েছে তেহরান। তাবরিজ ও কেরমানশাহর আশপাশের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক বিমানঘাঁটিগুলোতেও পুনর্গঠনের কাজ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বে হওয়া পারমাণবিক সমঝোতার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত ও নতুন করে হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বৈঠকের গুঞ্জন
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও আলোচনার সম্ভাবনার খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, কাতার ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে এ ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স। সংস্থাটি জানিয়েছে, আলোচনার বিষয়ে প্রকাশিত খবরের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং ভবিষ্যতে কোনো অগ্রগতি হলে তা শুধুমাত্র ইরানের আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকেই জানানো হবে।
প্রতিবেদকের নাম 














