ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চরম মানসিক চাপে মার্কিন নৌসেনারা ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, ইউএনওকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর পুনর্বহালসহ ৪ দাবি ঢাকা ট্যাক্সেস বারের রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক যুগ্ম সচিব জগলুল পাশা রাজধানীতে নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু, আহত ২ গ্যাস সংকটে জামালপুর-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে চালকদের অবরোধ বগুড়ায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক দিয়ে তৈরি ৩০ কেজি জিলাপি ধ্বংস নিজেদের স্বার্থেই শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত: রিজভী গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামে কারখানায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে উৎপাদন দিল্লির আমন্ত্রণে তারেক রহমান কি ভারত সফরে যাবেন?
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

নড়াইলে সাত বছরেও শেষ হয়নি বেড়িবাঁধের কাজ, ঝুঁকিতে ৬ হাজার একর জমি

  • arif
  • আপডেটের সময়: ০৯:২৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৩১ সময় দেখুন

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ছয় হাজার একর জমির ফসল ও বসতবাড়ি মধুমতী নদীর পানিতে বছরের পর বছর প্লাবিত হচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো পরিবার। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও সাত বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি। দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নড়াইলে সাত বছরেও শেষ হয়নি বেড়িবাঁধের কাজ, ঝুঁকিতে ৬ হাজার একর জমি

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশকের ভাঙনে মধুমতী নদীর পাড়ে পাকা সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। বছরের পর বছর নদীর পানি ঢুকে অন্তত ছয় হাজার একর জমির ফসল প্লাবিত হচ্ছে। শুধু ফসলি জমি নয়, ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো পরিবার।

আরও পড়ুনঃ  খরচ ও ভর্তুকি কমাতে ন্যানো সারের দিকে সরকারের নজর

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০১৯ সালে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল থেকে ঘাঘা চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত (ধলইতলা) ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একনেক সভায় অনুমোদন দেয় তৎকালীন সরকার। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৩৪২ কোটি টাকা।

স্থানীয়দের আপত্তি ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২৩ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন। ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফা সময় বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি খুবই ধীর। কিছু অংশে খনন কাজ ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এছাড়া প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ১৬১ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন মাত্র ২৪ জন। বেড়িবাঁধ নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  চকরিয়ায় ট্রাক-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা নিহত

উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের ফসলি জমি ও বাড়িঘর রক্ষায় দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বলছে, জমির ক্ষতিপূরণ না পেলে কোনোভাবেই তারা কাজ চলতে দেবেন না।

এস এ ইউবি জে বি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. মিলন আলী সময় সংবাদকে বলেন, বেড়িবাঁধের কাজ নিয়ে আমরা কিছুটা বিপাকে আছি। এখনো পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরো জমি আমাদের বুঝিয়ে দেয়নি। কাজ করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা বলছেন, ক্ষতিপূরণ না পেলে কাজ করতে দেবেন না। এ অবস্থায় কিছু অংশে কাজ করা যাচ্ছে, তবে পুরো জমি বুঝে পেলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ  মিরসরাইয়ের আবাসিক হোটেলে এএসআইয়ের ঝুলন্ত মরদেহ, স্ত্রী ও শিশুকন্যা উদ্ধার

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, প্রকল্পটি ২০১৯ সালের হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০২৩ সাল থেকে কাজ শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয় বাধা ও জমি জটিলতার কারণে ঠিকাদার নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারছেন না। লাল পতাকা দিয়ে জমি চিহ্নিত করা হলেও পরে তা তুলে ফেলা হচ্ছে। সমস্যা সমাধান হলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হোসনে আরা তান্নি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জমি চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৪ জন ক্ষতিগ্রস্তকে যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিপূরণের চেক দেয়া হয়েছে। বাকিদের আবেদন ও কাগজপত্র যাচাই করে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চরম মানসিক চাপে মার্কিন নৌসেনারা

নড়াইলে সাত বছরেও শেষ হয়নি বেড়িবাঁধের কাজ, ঝুঁকিতে ৬ হাজার একর জমি

আপডেটের সময়: ০৯:২৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ছয় হাজার একর জমির ফসল ও বসতবাড়ি মধুমতী নদীর পানিতে বছরের পর বছর প্লাবিত হচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো পরিবার। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও সাত বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি। দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নড়াইলে সাত বছরেও শেষ হয়নি বেড়িবাঁধের কাজ, ঝুঁকিতে ৬ হাজার একর জমি

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশকের ভাঙনে মধুমতী নদীর পাড়ে পাকা সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। বছরের পর বছর নদীর পানি ঢুকে অন্তত ছয় হাজার একর জমির ফসল প্লাবিত হচ্ছে। শুধু ফসলি জমি নয়, ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো পরিবার।

আরও পড়ুনঃ  নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০১৯ সালে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল থেকে ঘাঘা চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত (ধলইতলা) ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একনেক সভায় অনুমোদন দেয় তৎকালীন সরকার। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৩৪২ কোটি টাকা।

স্থানীয়দের আপত্তি ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২৩ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন। ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফা সময় বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি খুবই ধীর। কিছু অংশে খনন কাজ ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এছাড়া প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ১৬১ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন মাত্র ২৪ জন। বেড়িবাঁধ নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  মিরসরাইয়ের আবাসিক হোটেলে এএসআইয়ের ঝুলন্ত মরদেহ, স্ত্রী ও শিশুকন্যা উদ্ধার

উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের ফসলি জমি ও বাড়িঘর রক্ষায় দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বলছে, জমির ক্ষতিপূরণ না পেলে কোনোভাবেই তারা কাজ চলতে দেবেন না।

এস এ ইউবি জে বি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. মিলন আলী সময় সংবাদকে বলেন, বেড়িবাঁধের কাজ নিয়ে আমরা কিছুটা বিপাকে আছি। এখনো পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরো জমি আমাদের বুঝিয়ে দেয়নি। কাজ করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা বলছেন, ক্ষতিপূরণ না পেলে কাজ করতে দেবেন না। এ অবস্থায় কিছু অংশে কাজ করা যাচ্ছে, তবে পুরো জমি বুঝে পেলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ  ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, প্রকল্পটি ২০১৯ সালের হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০২৩ সাল থেকে কাজ শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয় বাধা ও জমি জটিলতার কারণে ঠিকাদার নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারছেন না। লাল পতাকা দিয়ে জমি চিহ্নিত করা হলেও পরে তা তুলে ফেলা হচ্ছে। সমস্যা সমাধান হলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হোসনে আরা তান্নি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জমি চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৪ জন ক্ষতিগ্রস্তকে যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিপূরণের চেক দেয়া হয়েছে। বাকিদের আবেদন ও কাগজপত্র যাচাই করে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।