ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

নালা খনন করতে গিয়ে মিলল ১২৭ কোটি টাকার স্বর্ণের বার ও মুদ্রা

বেলজিয়ামে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন পরিবর্তনের জন্য খননকাজ করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার ও দুর্লভ স্বর্ণমুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন নির্মাণশ্রমিকরা। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯০ লাখ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২৭ কোটি টাকা।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ব্রাসেলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সিন্ট-জিলিস-ডেন্ডারমন্ডে এলাকায় এ গুপ্তধনের সন্ধান পাওয়া যায়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন পরিবর্তনের কাজ চলার সময় ১৮ বছর বয়সী কোবে নামে এক চুক্তিভিত্তিক কর্মী প্রথম স্বর্ণগুলো দেখতে পান।

কোবে জানান, শুরুতে মাটিতে পড়ে থাকা জিনিসগুলোকে তিনি সাধারণ ১ ইউরোর মুদ্রা মনে করেছিলেন। পরে একটি স্বর্ণের বার দেখতে পান। এরপর আরও খনন করলে একের পর এক স্বর্ণমুদ্রা, স্বর্ণের টুকরো ও মূল্যবান বার বেরিয়ে আসে।

আরও পড়ুনঃ  ৯০০ কর্মী ছাঁটাই করে আলোচনায় আসা সিইও এবার নিজেই চাকরিচ্যুত

উদ্ধার করা স্বর্ণের বার, মুদ্রা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী একটি পুরোনো ইটের সেলারের দেয়ালের ভেতরে প্লাস্টিকের ব্যাগে সাজানো ছিল। সেখানে থরে থরে রাখা ছিল স্বর্ণমুদ্রা, স্বর্ণের টুকরো বা নাগেট এবং নির্দিষ্ট নম্বরযুক্ত স্বর্ণের বার। এগুলো পরিকল্পিতভাবে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে থিওফিলাস ভ্যান আস নামে এক ডিস্টিলারি মালিকের জন্য ওই এলাকায় একটি দৃষ্টিনন্দন ভিলা নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে ১৮৯৯ সালে বিয়ার উৎপাদন শুরু হয়, যা ১৯৭০ সাল পর্যন্ত চলেছিল। ভবনটির মূল ফটকে এখনো প্রতিষ্ঠাতার নামের আদ্যক্ষর ‘ভিএ’ খোদাই করা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহে বড় ধাক্কা, চট্টগ্রামে ৪০ শতাংশ গ্যাস ঘাটতি

বর্তমানে সামাজিক কল্যাণ সংস্থা সিএডব্লিউ ওস্ট-ভ্লাদেরেন ভবনটি সংস্কার করে সেখানে অফিস ও আবাসন তৈরির কাজ করছে। ওই সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন পরিবর্তনের সময়ই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের সন্ধান মেলে।

উদ্ধারের পর স্বর্ণের বার, মুদ্রা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ব্রাসেলসের একটি নিরাপদ ভল্টে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এগুলোর প্রকৃত মালিক কে, তা নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

আরও পড়ুনঃ  ২৫ মেধাবী শিক্ষার্থীকে ডিসির অভিনন্দন, চিঠির সঙ্গে বই-ফুল-মিষ্টি

পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রসিকিউটর অফিসের প্রতিনিধি হান ওলেভিয়ার জানান, প্রথমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ কোনো চুরি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কি না। মালিকানা নিয়ে পরবর্তী সময়ে জটিল দেওয়ানি মামলাও হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, এ ধরনের গুপ্তধনের প্রকৃত মালিকের সন্ধানে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ফলে প্রায় ১২৭ কোটি টাকা মূল্যের এই বিপুল স্বর্ণের শেষ পর্যন্ত মালিকানা কার হাতে যাবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

নালা খনন করতে গিয়ে মিলল ১২৭ কোটি টাকার স্বর্ণের বার ও মুদ্রা

আপডেটের সময়: ০৯:৩৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বেলজিয়ামে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন পরিবর্তনের জন্য খননকাজ করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার ও দুর্লভ স্বর্ণমুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন নির্মাণশ্রমিকরা। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯০ লাখ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২৭ কোটি টাকা।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ব্রাসেলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সিন্ট-জিলিস-ডেন্ডারমন্ডে এলাকায় এ গুপ্তধনের সন্ধান পাওয়া যায়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন পরিবর্তনের কাজ চলার সময় ১৮ বছর বয়সী কোবে নামে এক চুক্তিভিত্তিক কর্মী প্রথম স্বর্ণগুলো দেখতে পান।

কোবে জানান, শুরুতে মাটিতে পড়ে থাকা জিনিসগুলোকে তিনি সাধারণ ১ ইউরোর মুদ্রা মনে করেছিলেন। পরে একটি স্বর্ণের বার দেখতে পান। এরপর আরও খনন করলে একের পর এক স্বর্ণমুদ্রা, স্বর্ণের টুকরো ও মূল্যবান বার বেরিয়ে আসে।

আরও পড়ুনঃ  রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র বৈধ

উদ্ধার করা স্বর্ণের বার, মুদ্রা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী একটি পুরোনো ইটের সেলারের দেয়ালের ভেতরে প্লাস্টিকের ব্যাগে সাজানো ছিল। সেখানে থরে থরে রাখা ছিল স্বর্ণমুদ্রা, স্বর্ণের টুকরো বা নাগেট এবং নির্দিষ্ট নম্বরযুক্ত স্বর্ণের বার। এগুলো পরিকল্পিতভাবে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে থিওফিলাস ভ্যান আস নামে এক ডিস্টিলারি মালিকের জন্য ওই এলাকায় একটি দৃষ্টিনন্দন ভিলা নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে ১৮৯৯ সালে বিয়ার উৎপাদন শুরু হয়, যা ১৯৭০ সাল পর্যন্ত চলেছিল। ভবনটির মূল ফটকে এখনো প্রতিষ্ঠাতার নামের আদ্যক্ষর ‘ভিএ’ খোদাই করা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

বর্তমানে সামাজিক কল্যাণ সংস্থা সিএডব্লিউ ওস্ট-ভ্লাদেরেন ভবনটি সংস্কার করে সেখানে অফিস ও আবাসন তৈরির কাজ করছে। ওই সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন পরিবর্তনের সময়ই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের সন্ধান মেলে।

উদ্ধারের পর স্বর্ণের বার, মুদ্রা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ব্রাসেলসের একটি নিরাপদ ভল্টে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এগুলোর প্রকৃত মালিক কে, তা নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

আরও পড়ুনঃ  মার্কিন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠক, বিনিয়োগ বাড়ানোর আলোচনা

পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রসিকিউটর অফিসের প্রতিনিধি হান ওলেভিয়ার জানান, প্রথমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ কোনো চুরি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কি না। মালিকানা নিয়ে পরবর্তী সময়ে জটিল দেওয়ানি মামলাও হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, এ ধরনের গুপ্তধনের প্রকৃত মালিকের সন্ধানে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ফলে প্রায় ১২৭ কোটি টাকা মূল্যের এই বিপুল স্বর্ণের শেষ পর্যন্ত মালিকানা কার হাতে যাবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়।