ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পথে বড় ধাক্কা দিয়েছে ওয়েলস। প্রকাশ্যে তার প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছে দেশটি। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছ থেকে সরে দাঁড়ানো প্রথম সদস্যদেশ হিসেবে ইতিহাস গড়ল ওয়েলস।
সম্প্রতি ফিফার বিশ্বকাপসহ বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনাকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। তীব্র সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি স্থগিত করতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো। এরপর থেকেই তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হতে থাকে।
ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএডব্লিউ) এক বিবৃতিতে জানায়, ২০২৭-২০৩১ মেয়াদে ফিফা সভাপতির নির্বাচনে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রার্থিতাকে তারা আর সমর্থন করবে না।
বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, “সুশাসন, নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অংশীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মূল্যবোধের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার কারণে বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্বে মি. ইনফান্তিনোর প্রতি আমাদের আর আস্থা নেই।”
এফএডব্লিউ আরও জানায়, ফুটবলের সর্বোচ্চ স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে ব্যর্থ হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নের পরিবর্তে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে তারা এ অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে।
ইনফান্তিনোর প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠন এবং সেখানে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রস্তাবটি প্রকাশের পর থেকেই ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সতর্ক করে জানায়, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। একই সময়ে উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের সমালোচনা করে।
ওয়েলসের এই সিদ্ধান্ত ইনফান্তিনোর জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। এতদিন তার বিরুদ্ধে সমালোচনা মূলত বিভিন্ন আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এলেও এবার সরাসরি একটি সদস্যদেশ তার পুনর্নির্বাচনের প্রার্থিতায় সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়েলসের এ অবস্থান ভবিষ্যতে অন্য সদস্যদেশগুলোকেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করতে পারে, যা ফিফা সভাপতির আগামী নির্বাচনে ইনফান্তিনোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 
























