গ্যাস-সংকটের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় (জেএফসিএল) আবারও পুরোদমে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টা থেকে কারখানাটিতে উৎপাদন কার্যক্রম চালু হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. ফজলুল হক।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, গ্যাস-সংকটের কারণে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে জেএফসিএলের উৎপাদন বন্ধ ছিল। এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারিও একই কারণে কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
পরে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সরবরাহ শুরু করলে কারখানার ত্রুটি মেরামতের পর ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ফের উৎপাদন চালু হয়। কিন্তু মাত্র কয়েকদিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
মেরামত শেষে ৯ মার্চ সকালে উৎপাদন পুনরায় শুরু হলেও গ্যাসের চাপ প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকায় কারখানাটি আবার বন্ধ হয়ে যায়। পরে দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর উৎপাদন ফের চালু হয়েছিল। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবারও গ্যাস-সংকটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
ফজলুল হক বলেন, গ্যাস-সংকটের কারণে প্রায় আট মাস জেএফসিএলের উৎপাদন বন্ধ ছিল। সোমবার গভীর রাত থেকে কারখানাটিতে পুরোপুরি উৎপাদন শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে যে পরিমাণ গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব হবে। গ্যাসের চাপ আরও বাড়ানো গেলে দৈনিক উৎপাদন ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানাটি দেশের বৃহত্তম দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন ১ হাজার ৭০০ টন উৎপাদনক্ষমতা নিয়ে ১৯৯১ সালে কারখানাটিতে সার উৎপাদন শুরু হয়।
কারখানাটি থেকে উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলাসহ দেশের মোট ১৯টি জেলায় ইউরিয়া সার সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
প্রতিবেদকের নাম 






















