একটি সাধারণ আন্তর্জাতিক ফোনকলের সূত্র ধরে ভারতের গুজরাটে এক বাংলাদেশি নারীর অবৈধ বসবাসের তথ্য সামনে এসেছে। এর ফলে ভারতের তরুণ প্যাটেল এবং বাংলাদেশি তরুণী কাজলের দীর্ঘ ১৪ বছরের সংসার ও সম্পর্ক এখন আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে।
গুজরাট পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান চলাকালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং পরে ওই নারীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গুজরাটের আনন্দ জেলার লাম্বভেল গ্রামের বাসিন্দা তরুণ প্যাটেল জানান, গত ২ জুন তার স্ত্রী কাজল বাংলাদেশে থাকা তার অসুস্থ মায়ের খোঁজ নিতে একটি আন্তর্জাতিক ফোন করেন। সেই সময় কান্নাকাটি করে মায়ের সঙ্গে কথা বলার আকুতি জানালে তিনি নিজের মোবাইল থেকে একটি আইএসডি কল করেন।
পরবর্তীতে ওই কল ট্র্যাক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তরুণের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার স্ত্রী একজন বাংলাদেশি নাগরিক।
আনন্দ জেলার পুলিশ সুপার জি.জি. জাসানি জানান, কাজল কোনো বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা বিয়ের আইনি নথি ছাড়াই গুজরাটে বসবাস করছিলেন। এ কারণে তাকে আটক করে একটি নারী সুরক্ষা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে গোপালপুর এলাকার কাজল এবং গুজরাটের তরুণ প্যাটেলের পরিচয় হয়। পরে তাদের সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। কাজল পরে ভারতে প্রবেশ করে এবং তারা বিয়ে করেন বলে জানা যায়।
ঘটনার পর তাদের দুই সন্তান মায়ের জন্য কান্নাকাটি করছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। কাজলের শাশুড়িও তাকে পরিবারের অংশ হিসেবে ফিরে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে কাজলকে একটি নারী হোমে রাখা হয়েছে। তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে তরুণ প্যাটেল আদালতে গিয়ে স্ত্রীর দেশে ফেরত পাঠানো ঠেকাতে আইনগত লড়াই শুরু করেছেন।
এদিকে গুজরাট পুলিশ ‘অপারেশন ডেল্টা হান্ট’ নামে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে একাধিক সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছে এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















