শুধু বক্তব্য দিয়ে নয়, দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও ভালো কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও মন জয় করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হয়ে হাজিদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আশকোনায় হজ অফিসে আয়োজিত ‘সরকারি মাধ্যমে হজ গাইড পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান, ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী।
নিরাপদে হজ পালনই ব্যবস্থাপনার মূল সাফল্য
ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজ ব্যবস্থাপনার সাফল্য শুধু হাজিদের নিবন্ধন বা সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হাজিদের নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছানো, মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফার আনুষ্ঠানিকতা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার মধ্যেই ব্যবস্থাপনার মূল সাফল্য নিহিত।
তিনি বলেন, আগের হজ ব্যবস্থাপনার বড় অংশ আগের সরকারের সময় সম্পন্ন হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়। নিবন্ধন ও সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি রুটিন কার্যক্রম। হাজিদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ।
হাজিদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা
ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় হাজিদের জন্য ১ লাখ বোতল পানি বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে লাগেজ র্যাপিং এবং নারী হাজিদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো হাজির লাগেজ হারায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি হাজিদের সহযোগিতায় পুলিশ, ইমিগ্রেশন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, আনজুমানে মফিদুল ইসলাম ও স্কাউটসহ সংশ্লিষ্টরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন। হাজিদের সেবা করাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব উল্লেখ করে তাদের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করেন তিনি।
শেষ মুহূর্তে দুই হাজিকে সৌদি পাঠানোর উদ্যোগ
ধর্মমন্ত্রী জানান, হজ ফ্লাইটের শেষ দিনে হজ ক্যাম্প প্রায় ফাঁকা হয়ে যাওয়ার পর এনএসআইয়ের এক কর্মকর্তা তাকে ফোন করে জানান, ভিসা থাকা সত্ত্বেও এক নারী ও এক পুরুষ হজযাত্রী সৌদি আরবে যেতে পারছেন না।
পরে তিনি নিজে তাদের টিকিটের অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এনএসআই কর্মকর্তাকে দ্রুত ওই দুই হাজিকে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত তাদের নিরাপদে সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হয় বলে জানান তিনি।
আরও ভালো সেবার আহ্বান
হজ গাইডদের দায়িত্বশীলতা ও সেবার মান আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের জন্য পুরস্কারের সুযোগ বাড়ানো হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার হজ গাইডদের কঠোর পরিশ্রম ও হাজিদের সেবায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, হজ গাইডদের দেওয়া সম্মাননা তাদের সেবার তুলনায় সামান্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
সভাপতির বক্তব্যে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং গুরুতর অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের হজে পাঠানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গত বছরের অব্যবহৃত অর্থ হাজিদের ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত সচিব (হজ) ড. মো. আয়াতুল ইসলাম ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এ সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব), ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াক্ফ প্রশাসন ও হজ অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাজিদের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮ জন হজ গাইডকে পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রতিবেদকের নাম 




















