ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত: প্রধানমন্ত্রী

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ সময় দেখুন

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’

শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরের অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝেছেন—বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীরা যেমন নিজেদের ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, তেমনি তিনি বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের লক্ষ্য সাফল্য নিশ্চিত করা।

তারেক রহমান বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরতে চান।

আরও পড়ুনঃ  ফ্যাসিস্টরা দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে, এতে বাতাস দিচ্ছে গুপ্ত-সুপ্তরা: রিজভী

তিনি বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাংলাদেশে রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। তৈরি পোশাক ও উৎপাদন খাতে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান থাকলেও এর বাইরে জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায়ও বড় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সরলীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  দেড় বছর পর নিখোঁজ কিশোরী নিঝুমের রহস্য উদঘাটন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের জন্য নতুন একটি রেফারেন্স পয়েন্ট তৈরি হয়েছে এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও যুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে নীতির পাশাপাশি তার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিধিবিধানের পূর্বানুমেয়তা, মূলধন স্থানান্তরের সুবিধা, বিনিয়োগের সুরক্ষা এবং মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ বিনিয়োগকারীদের গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

আরও পড়ুনঃ  সরকার কথা না শুনলে আন্দোলনের মাধ্যমে ফয়সালা হবে: জামায়াত আমির

ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সরকার বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায়, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন এবং তাদের সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো আরও বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।

বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কথা শুনে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বাধা দূর করতে সরকার প্রস্তুত।

বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের বিভিন্ন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটের সময়: ১১:০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’

শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরের অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝেছেন—বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীরা যেমন নিজেদের ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, তেমনি তিনি বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের লক্ষ্য সাফল্য নিশ্চিত করা।

তারেক রহমান বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরতে চান।

আরও পড়ুনঃ  ডিজেলের দাম বেড়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরে চুক্তি দর সমন্বয় চান বার্থ অপারেটররা

তিনি বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাংলাদেশে রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। তৈরি পোশাক ও উৎপাদন খাতে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান থাকলেও এর বাইরে জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায়ও বড় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সরলীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  দেড় বছর পর নিখোঁজ কিশোরী নিঝুমের রহস্য উদঘাটন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের জন্য নতুন একটি রেফারেন্স পয়েন্ট তৈরি হয়েছে এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও যুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে নীতির পাশাপাশি তার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিধিবিধানের পূর্বানুমেয়তা, মূলধন স্থানান্তরের সুবিধা, বিনিয়োগের সুরক্ষা এবং মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ বিনিয়োগকারীদের গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

আরও পড়ুনঃ  বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন

ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সরকার বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায়, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন এবং তাদের সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো আরও বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।

বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কথা শুনে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বাধা দূর করতে সরকার প্রস্তুত।

বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের বিভিন্ন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।