দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চম নৌবহরের প্রধান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখলে আরও কঠোর ও ব্যাপক জবাব দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযান চলমান প্রতিরোধের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো নতুন সামরিক আগ্রাসনের জবাবে আরও শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেয় তারা।
আইআরজিসির দাবি, দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম দ্বীপের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় সিরিকের বেমানি এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ইরানের পাল্টা হামলার পর বাহরাইনে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাইরেন বাজিয়ে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।
তেহরান থেকে আল জাজিরার বিশেষ সংবাদদাতা মোহাম্মদ ভাল জানান, ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক বিবৃতিটি ছিল সতর্কতামূলক। তবে পরবর্তীতে আইআরজিসি এবং খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর উভয়েই নিশ্চিত করে যে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটির কথাই বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হামলায় কতটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর এক পৃথক বিবৃতিতে দাবি করেছে, নিজেদের একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানে হামলা চালিয়েছে। এর জবাব দিতেই ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি যৌথভাবে এই প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালনা করেছে।
বিবৃতির শেষাংশে তারা আরও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানায়, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব লক্ষ্যবস্তুতে আরও তীব্র, নিখুঁত ও ব্যাপক হামলা চালানো হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বিশ্ব নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরানের এসব দাবি ও হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীন আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই সম্ভব হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা।
প্রতিবেদকের নাম 


























